বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

উত্তরে ব্যবহার হচ্ছে মশার নতুন ওষুধ, দক্ষিণের খবর নেই

আগস্ট ১০, ২০১৯ | ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আমদানি করা নতুন ওষুধ মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। চীন থেকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধের নমুনা এনে মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক পরীক্ষা ও বিশেষষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ার পরই নতুন ওষুধ ব্যবহার শুরু করে সংস্থাটি। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এরইমধ্যে চীন থেকে ২০ হাজার লিটার ওষুধ আমদানি করা হয়েছে।

ডিএনসিসি ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ ছিটানোর কাজ শুরু করে দিলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কোনো খবর নেই। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকলে একাধিকবার ডিএসসিসি মেয়রসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা দ্রুত মশার কার্যকরী ওষুধ আনার কথা বলা হলেও ঈদের আগে এর কোনো সম্ভাবনা নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেসব ওষুধ আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেগুলোর সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট পেতেই সময় লাগবে কমপক্ষে আরও ৩ থেকে ৫ দিন। পরীক্ষার পর আমদানির আনুষাঙ্গিকতা শুরু হবে। এদিকে, ঈদের বাকি আর একদিন। ফলে ঈদের আগে ওষুধ আসছে না।

ডিএনসিসিরর মেয়র আতিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে সারাবাংলা’কে বলেন, আগে মশার ওষুধ আমদানিতে একটি সিন্ডিকেট ছিল। সেটি আমরা ভেঙে দিয়েছি। আমরা নিজেরাই গত এক আগস্ট থেকে নতুন মশার ওষুধ ক্রয় ও আমদানির লাইসেন্স পাই। যার মাধ্যমে এখন আর কোনো কোম্পানি ছাড়াই আমরা নিজেরাই মানসম্মত ওষুধ আমদানি করতে পারব।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘লাইসেন্স পাওয়ার পর চীনের নানজিং ইকো ফার্ম বায়োটেকনোলজি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মেলাথিয়ন ৫৮% (ইসি) এবং মেলাথিয়ন ৫% (আরএফইউ) নামের দুটি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো আইইডিসিআর এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণ উয়ং (পিপিইউ) এ পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলাম। সেখানে এসব ওষুধের প্রথমে ফিল্ড টেস্ট, ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। পরীক্ষায় ওষুধ উত্তীর্ণ হয়েছে। তাই গতকাল বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) থেকে ওষুধ ব্যবহার শুরু করেছি আমরা। তিনি জানান, ওষুধ নিয়ে আসাটা কিন্তু আমাদের  দায়িত্ব না। আমাদের দায়িত্ব ছিল ওষুধটি কিনে ব্যবহার করা। তবুও আনতে হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায়। তাই আমরা চাই আপৎকালীন সময়টা যেন কেটে উঠতে পারি। সে জন্য আমরা আপাতত ২০ হাজার লিটার ওষুধ আমদানি করেছি। আরও ৪০ হাজার আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। যেগুলো এনেছি সেগুলো অন্তত ২০ থেকে ২৫ দিন চলবে।

অন্যদিকে ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ২ আগষ্ট বায়ার করপোরেশন নামে ভারতীয় একটি কোম্পানির ‘Aque k Delthrean (Deltamethrin-ডেলটাম্যাথরিন) 2%EW’ নামে ওষুধটির নমুনা সংগ্রহ করে ডিএসসিসি। এটি ছিল জার্মানির তৈরি পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করার একটি ওষুধ। যা বাজারজাত করতো ভারতীয় এ কোস্পানী। ওষুধটির নমুনা সংগ্রহের পর ওইদিন ফিল্ড টেস্ট করা হয়। কিন্তু ফিল্ড টেস্টের প্রথম পর্বে নকডাউনেই (অজ্ঞান হওয়া) ওষুধটি অনুত্তীর্ণ হয়। এমনকি ওষুধটি ব্যবহারে হাতমুখ জ্বালাপোড়া করতো বলেও জানায় ডিএসসিসির কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ওষুধটির নকডাউনে তেমন মশা অজ্ঞান হয়নি এবং এর ধোঁয়া গায়ে লাগলে শরীর জ্বলতো। তাই এটির দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছিল। ওই কর্মকর্তা জানান, ওই কোম্পানি বাদ দেয়ার পর ৬ আগস্ট ট্র্যাগরোজ নামের ভারতীয় আরেকটি কোম্পানির ম্যালাথিউন ৫%, এবং ডেলটাম্যাথরিন ১.২৫% নামের ২টি ওষুধের সংগৃহীত নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষা চালায় ডিএসসিসি। পরীক্ষায় ওষুধগুলো মানোত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর ৮ আগস্ট ওষুধগুলো উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এবং আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মানোত্তীর্ণের রিপোর্ট দেওয়ার পর ওষুধটি আমদানি করা হতে পারে। কিন্তু রিপোর্ট ঈদের আগে পাওয়া যাবে না।

ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এ প্রসঙ্গে সারাবাংলা’কে বলেন, বিদেশ থেকে সংগৃহীত নতুন ওষুধের নমুনা ডিএসসিসির প্রাথমিক পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ হয়েছে। তাই সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এবং আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তারা রিপোর্ট যদি সন্তোষজনক দিলে তবেই যদি সম্ভব হয় ঈদের আগেই আমরা ওষুধটি আমদানি করতে পারব।  তিনি আরও জানান, প্রতিবেদন পাওয়ার পরের দিনই আমরা ওষুধ আনার চেষ্টা করব।

ডিএসসিসির ওষুধের পরীক্ষার রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা সারাবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা চলছে। ফলাফল আসলে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেব। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব না।’

সারাবাংলা/এসএইচ/এইচএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন