মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

অবরুদ্ধ ভূখণ্ড: ছবিতে কাশ্মীর ইস্যু

আগস্ট ১০, ২০১৯ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত সপ্তাহ থেকে কার্যত গৃহবন্দি রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকার প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার ভারতীয় সেনা। তারা রাস্তায় ব্যারিকেড নিয়ে রেখেছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে বিভিন্ন ভবনের ছাদেও অবস্থান নিয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন এমনকি ল্যান্ড ফোনেরও। উপত্যকার গ্রামগুলোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি কাশ্মীরিদের ঘরে বন্দি থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে বন্দুকের নলের মুখে।

বিজ্ঞাপন

ভারতজুড়ে গুগল সার্চে শীর্ষে ‘কাশ্মীরি মেয়েরা’

ভারত সরকার বলছে, ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শান্তি বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিস্থিতিকে গণকারাবন্দি হিসেবে দেখছেন।

এই অচলাবস্থার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদের ঢেউ। গত শুক্রবারও চলেছে প্রতিবাদ। সেসময় বন্দুকের শব্দও শোনা গেছে।

বিজ্ঞাপন

কাশ্মিরের রক্তাক্ত ও কলুষিত অতীত

ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এত বেশি জোরদার করা হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বিদেশি সাংবাদিকদেরও।

    বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করেছে অধিকাংশ কাশ্মীরি পরিবারে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

চমৎকার সুন্দর ও উর্বর উপত্যকা কাশ্মীর। এর তৃণভূমিগুলো সবুজ ঘাস আর বুনো ফুলের কার্পেটে মোড়া। নীল আকাশের নিচে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়গুলো এক অপার্থিব সৌন্দর্যের লীলাভূমি। যাকে পৃথিবীর ভূস্বর্গ বলা হয়। তবে অনেক ভারতীয় নাগরিক মনে করেন কাশ্মীর তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভারতীয় কর্মকর্তারাও মনে করেন ৩৭০ ধারার রদ ও বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর সেখানে কেন্দ্রীয় শাসন জোরদার করা যাবে যার ফলে সেখানে দুর্নীতি কমে আসবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।

কাশ্মীর ইস্যু: ৩৭০ ধারা, রদ ও ফলাফল

তবে অধিকাংশ কাশ্মীরি ভারতের অংশ হতে রাজি নয়। তারা ভারতকে বিদেশি ও দখলদার হিসেবে মনে করে।

কারফিউ জারির পর কাশ্মীরের শ্রীগরের একটি রাস্তার দৃশ্য।

কয়েকদিনের ধারাবাহিক কারফিউয়ের পর এরই মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে অনেক পরিবারে। গতকাল শুক্রবার কারফিউয়ের মধ্যে অনেকে পাশ্ববর্তী মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান। ভারতীয় সেনারা সেখানেও সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দেয়। মসজিদে যাওয়া আসার সময় তাদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাসি করে।

৩৭০ ধারা বাতিল, জম্মু-কাশ্মীর থেকে আলাদা হচ্ছে লাদাখ

জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের শ্রমিকরা ট্রেন ও বাসের কাউন্টারে ভিড় জমাতে শুরু করে দ্রুত কাশ্মীর ত্যাগ করার জন্য।

 দ্রুত কাশ্মীর ছাড়ার জন্য বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড়

  কাশ্মীরে থাকা বিভিন্ন প্রদেশের শ্রমিকরা কাশ্মীর ছাড়ছেন

বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর অনেক কাশ্মীরি মর্মাহত হয়ে পড়ে। গত ৫ জুন, সোমবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার এক আদেশ বলে কাশ্মীরিদের বিশেষ মর্যাদা বা স্পেশাল স্ট্যাটাস সংবলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারার বিলোপ করে।

৩৭০ ধারা বাতিলের পর চিন্তিত কাশ্মীরের বাসিন্দারা

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদে কাশ্মীরের জনগণ প্রতিবাদে নামলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ৫০০ জনের বেশি প্রতিবাদকারীকে আটক করে অস্থায়ী কারাগারে রাখে।

শুক্রবারে শ্রীনগরের রাস্তায় ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর টহল

 পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের ভিড়

শ্রীনগরের রাস্তায় ভারতীয় সেনাদের টহল

ভারতজুড়ে অধিকাংশ মানুষ কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এমনকি নরেন্দ্র মোদির বিরোধী দলের নেতারাও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে পাকিস্তানের অধিকাংশ নাগরিক মনে করেন কাশ্মীর তাদের অংশ হওয়া উচিত তাই ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ভারত ও পকিস্তানের হাতে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র এবং কাশ্মীর ইস্যুতে তারা একাধিকবার যুদ্ধও করেছে।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন রদের পর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে জনগণ উৎসব করে

কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের সিন্ধান্তের পর প্রতিবাদ মিছিল করে পাকিস্তানের নাগরিকরা

আরও পড়ুন:

 কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের ‘গভীর উদ্বেগ’

কাশ্মীর ইস্যুতে কৌশলী অবস্থান, স্বীকার কংগ্রেস নেতার

সারাবাংলা/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন