শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

আগস্ট ১১, ২০১৯ | ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দ নানাজনের কাছে নানারকম। বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের ঈদ সব সময় এক রকম হয় না। ক্ষমতায় থাকলে তাদের একরকম ঈদ, ক্ষমতার বাইরে থাকলে হয় আরেক রকম। টানা ১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতাদের ঈদ গত কয়েক বছর ধরে নিরানন্দেই কাটছে।

মামলা, জেল-জরিমানা, গ্রেফতার-হুলিয়ায় জর্জরিত দলটির নেতারা খুব একটা স্বস্তিতে ঈদ করতে পারেননি বিগত বছরগুলোতে। এবারের প্রেক্ষাপট আরও নাজুক। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় মেনে নিতে হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনও কারামুক্ত হতে পারেননি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত বছরগুলোর মতই লন্ডনে। এমন পরিস্থিতিতে থাকছে না দলের পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় আয়োজনও।

কিন্তু তারপরও থেমে থাকবে না বিএনপি নেতাদের ঈদ। ব্যথিত মন নিয়ে নিরানন্দ ঈদ করবেন তারা। দলের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। কেউবা ঈদ করবেন ঢাকায়। কেউ আবার ঈদ ঢাকায় করে গ্রামে যাবেন। দেবেন সাধ্যমতো কোরবানি।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঈদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে হবে। কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য সেখানেই রাখা হয়েছে। তাকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের কথা শোনা গেলেও ঈদের আগে সেটি আর হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রমতে, ঈদের দিন যেকোনো সময় কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দুই মেয়ে ও পরিবার পরিজন নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন ‍পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান সিঁথি। সঙ্গে নিয়ে যাবেন খালেদা জিয়ার পছন্দের খাবার।

চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানান, সাক্ষাৎতের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে পরিবারের কোন কোন সদস্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি।

সাধারণত, খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, বোনের স্বামী রফিকুল ইসলাম, ভাই সাঈদ এস্কান্দরের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ, পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই মেয়ে ও তারেক রহমানের স্ত্রীর বোন শাহিনা খান পরিবারের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ করে থাকেন।

বিগত বছরগুলোর মতো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঈদ করবেন লন্ডনে। স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ঈদ করবেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করবেন ঠাকুরগাঁও। শনিবার (১০ আগস্ট) আকাশ পথে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌঁছেছেন। সেখানে পরিবার পরিজন এবং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করবেন। দেবেন পশু কোরবানি। ঈদের কয়েকদিন পর তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের নামাজ শেষে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে যাবেন তিনি। এর পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে বিএসএমএমইউ-এ যাওয়ার কথা রয়েছে তার। স্থায়ী কমিটির আরেক প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঈদ করবেন নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ঈদ করবেন ঢাকায়, ড. মঈন খান ঈদ করবেন নিজ এলাকা নরসিংদীর পলাশে, মির্জা আব্বাস ঈদ করবেন ঢাকায়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঈদ করবেন চট্টগ্রামে। বরাবরই তিনি চট্টগ্রামে ঈদ করে থাকেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ যথারীতি ঈদ করবেন ভারতে। অনুপ্রবেশের দায়ে ২০১৫ সাল থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে আছেন তিনি। গত ৩ বছরে ৬টি ঈদ সেখানেই করতে হয়েছে তাকে। এবারও সেখানেই ঈদ করতে হবে তাকে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়। গুলশান জামে মসজিদের ঈদের নামাজ শেষে স্ত্রীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর বাসায় নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, মো. আব্দুল কাইয়ুম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ঈদ করবেন ঢাকায়।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান (চট্টগ্রাম) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (পটুয়াখালী), বরকত উল্লাহ বুলু (নোয়াখালী), মো. শাজাহান (নোয়াখালী), চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ (ফরিদপুর), মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ( ভোলা), অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান (টাঙ্গাইল), ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (ময়মনসিংহ), শামসুজ্জামান দুদু ( চুয়াডাঙ্গা), উপদেষ্টা পরিষদের আবুল খায়ের ভূইয়া লক্ষ্মীপুর, হেলালুজ্জামান তালকুদার লালু (বগুড়া), গোলাম আকবর খন্দকার (চট্টগ্রাম) যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার (বরিশাল), ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ( নোয়াখালী), খায়রুল কবীর খোকন (নরসিংদী), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী) নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।

তবে বিএনপি নেতারা যে যেখানেই ঈদ করুন না কেন, দলের পক্ষ থেকে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকার জন্য।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন