রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘বিষবাষ্পে’ ভরে যাচ্ছে পৃথিবী

আগস্ট ১৩, ২০১৯ | ১:৫৮ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০১৮ সালে পৃথিবীতে যে পরিমাণ গ্যাস আঘাত হেনেছে তা মানব সভ্যতার ইতিহাসে কখনও ঘটেনি বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ‘আমেরিকান আবহাওয়া সোসাইটি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করা এক গবেষণার ফলাফলে একথা জানানো হয়। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রাও বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় বলা হয়, আধুনিক সভ্যতার হিসেবে বিগত ৬০ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালেই সবচেয়ে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে। হিমবাহেও এর উপস্থিতি বেড়েছে, যা গত ৮ লাখ বছরের মধ্যে সর্ব্বোচ। প্রায় ৩২৫ পৃষ্ঠার ওই গবেষণা প্রতিবেদনে যেসব তথ্য-উত্তাপ বিশ্লেষণ করা হয়েছিলো সেগুলো পৃথিবীর ৬০টি দেশ থেকে ৪৭০ জন বিজ্ঞানী সংগ্রহ করেছিলেন।

গাড়ি চালানোর মতো নানারকমের কাজে বেড়েছে কার্বন নিঃসরণের পরিমান। ২০১৭ সালে যেখানে প্রতি মিলিয়ন মানুষের মধ্যে কার্বড ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের হার ছিলো ২.৪ শতাংশ, সেখানে মাত্র একবছরেই তা বেড়ে ২০১৮ সালে দাঁড়িয়েছে ৪০৭.৪ শতাংশে।

বিজ্ঞাপন

এই গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৮ সাল ছিলো ‘সবচেয়ে উষ্ণতার’ তালিকায় ‘চতুর্থ। এই সময়ের গড় তাপমাত্রাও .৩০ থেকে বেড়ে .৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। যা ১৯৮১-২০০০ এবং ২০০১-২০১০ সালের গড় দশকের চেয়েও বেশি।

একই সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বেড়েছে সমুদ্রস্তরের উচ্চতাও। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলেই ক্রমশ গলে যাচ্ছে হিমবাহ, যার ফলে সমুদ্রও আয়তনে বেড়ে চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সব পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যা উষ্ণতা ক্রমশ বাড়ার ফলাফল।

আর্কটিক এবং অ্যান্টার্টিক সমুদ্রে বরফ রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। একইসঙ্গে হিমবাহের বরফ গলে যাওয়ার ঘটনা গত ৩০ বছর ধরে বেড়েই চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সাম্প্রতিক দাবানল হলেও ২০১৮ সালে এরকম ঘটনার সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হচ্ছে মানুষ সাভানাকে ক্রমশ পুড়িয়ে কৃষিক্ষেত্র বানাচ্ছে। যে কারণে বড় বড় দাবানলের সংখ্যা কমে গলেও একই সঙ্গে জঙ্গল কমে যাওয়া এবং আগুনের সংখ্যা বাড়ছে।

গত ৪৮ বছরের মধ্যে ২০১৮ সাল ছিলো মেক্সিকোর তৃতীয় সব্বোর্চ উষ্ণ বছর। আলাস্কা জানিয়েছে গত ৯৪ বছরের মধ্যে এটিই ছিলো দ্বিতীয় সর্ব্বোচ। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই একবছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। যা ১৯৮০ সাল থেকে বর্তমান সময়ের মধ্যে চতুর্থ।

এই সময়ে ক্যারাবিয়ান দীপপুঞ্জের কোরাল রিফ আশঙ্কাজনক হারে ক্ষয়ে গেছে, দক্ষিণ আমেরিকাতেও ভারী তুষারপাতের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ১৯৫০ সালের পর পর গতবারই পুরো ইউরোপ ছিলো দ্বিতীয় সর্ব্বোচ উষ্ণ, এবং অস্ট্রেলিয়া গরম পড়েছিল বেশি, যা ১৯১০ সালের মধ্যে তৃতীয় সব্বোর্চ। একই সঙ্গে এশিয়ায় বেড়ে চলছে খরা। যার সবটাই ঘটছে পৃথিবীতে ক্রমশ বেড়ে চলা ‘গ্যাসীয় চাপ’ বা ‘বিষবাষ্পে’র কারণে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন