শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ

আগস্ট ১৩, ২০১৯ | ৫:১২ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাত তিনটার দিকে সাতক্ষীরা সদরের সুলতানপুর পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত গৃহবধু দিপীকা হাজরা কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ওমিয় হাজরার মেয়ে।

মৃত দিপীকা হাজরার মা কল্পনা হাজরা সারাবাংলাকে জানান, ২০১৮ সালে দিপীকার সাথে সুলতানপুর পালপাড়া গ্রামের অপারেষ পালের ছেলে অনিমেষ পালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই মারধোর করতো। ফলে চাহিদা মত তাদেরকে কয়েক দফা যৌতুকের টাকাও দেওয়া হয়। মেয়ের স্বামী অনিমেষ পাল বাগেরহাটে চাকরি করে। কিন্তু মেয়েকে সেখানে যেতে দিতোনা শ্বাশুরি নিয়তি পাল ও শ্বশুর অপারেষ পাল। এমনকি মোবাইলেও স্বামীর সাথে কথা বলতে দিতো না তারা। গত চারদিন আগে বাবার বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে আসতে যায় তার স্বামী। মেয়ে প্রথমে যেতে না চাইলে তাকে সেখানেই মারধোর করা হয়। এরপর মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে মেয়ের জামাই ফোন করে বলে দিপীকা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা শোনার পর আমরা এসে দেখি মেয়ে ঘরের ভিতর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। স্বামী অনিমেষ পাল ও তার বাড়ির লোকজন বলে রাতের বেলায় সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু মেয়ের মরদেহ নামানোর পর তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে প্রথমে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হয়েছ।’

মৃতের স্বামী অনিমেষ পাল ও শ্বশুর অপারেষ পাল হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘দিপীকা আত্মহত্যা করেছে। তাকে কেউ নির্যাতন করে হত্যা করে নাই।’

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/ওএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন