শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আইএস’র বাংলা ভিডিও বার্তায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: ডিএমপি

আগস্ট ১৪, ২০১৯ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুলিশ-র‌্যাব-সেনাবাহিনী, সরকারি অফিস আদালত, আমেরিকান-হিন্দু-বৌদ্ধ নাগরিক, গণতান্ত্রিক সভা-সমাবেশ, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর অফিস ও ভোট কেন্দ্রগুলোতে হামলা করা হবে বলে নতুন হুমকি দিয়েছে তথাকথিত আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদী সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)। বাংলাভাষায় ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় এ হুমকি উচ্চারণ করা হয়েছে। তবে সে হুমকি এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের ভিডিও বার্তায় আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

আট মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তাটি ইসলামিক স্টেট-এর খবর প্রচারকারী বার্তা সংস্থা আমাক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রোমভিত্তিক সংগঠন আইএফআই মনিটরিং তার ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে।

বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ সারাবাংলাকে জানিয়েছে, ভিডিও বার্তাটি তাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র এবং উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সারাবাংলা’কে বলেন, ‘আইএসের নতুন ভিডিও বার্তাটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা, কেন, কী কারণে এমন বার্তা ছড়াচ্ছে, তা অচিরেই প্রকাশ করব।’

বিজ্ঞাপন

‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই,’ এমনটা উচ্চারণ করে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সারাদেশে যথেষ্ঠ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া আছে। কারো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও তথাকথিত আইসের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর নজরদারি চলছে।’

বাংলায় ধারণ করা নতুন এই ভিডিও বার্তায় দেখা গেছে, তথাকথিত আইএস (ইসলামিক স্টেট) নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির নেতৃত্ব মেনে নিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণায় ৪ জঙ্গি শপথ নিচ্ছে। তাদের সকলের বুকের সাথেই বোমা সদৃশ বেল্ট জড়ানো। সকলের মুখমণ্ডলই ঢাকা। ভিডিও-তে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা, পুলিশি ভ্যানে হামলাসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

জঙ্গিবাদী তৎপরতার খবর প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে, আইএস এবার বাংলাদেশে তাদের পরিধি বিস্তার করতে যাচ্ছে। এ জন্য তারা দেশটিতে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমেছে। ২০১৯ সালে আইএস বাংলাদেশে ৪টি অভিযান চালিয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, সন্ত্রাস, চরমপন্থা ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২০১৬ সালে গুলশান হামলার পর জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গঠন করা হয়। এরই মধ্যে সিটিটিসি একাধিক অভিযান চালিয়ে দেশের অভ্যন্তরের জঙ্গি আস্তানাগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করেছে।

গত সপ্তাহেও আইএসের সমর্থক সন্দেহে ৫ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ গড়তে সরকার ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের সঙ্গেই যৌথভাবে কাজ করছে। গত সপ্তাহেও পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ জেএমবি’র ৩ সদস্যকে আটক করেছে।

সারাবাংলা/জেআইএল/এমএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন