বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দুই মাস সময় চেয়েছেন মাশরাফি

আগস্ট ১৭, ২০১৯ | ৫:২৪ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে তখন বিসিবির উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাদের সভা চলছিল। মূল এজেন্ডা, টাইগার হেড কোচের নিয়োগ চূড়ান্ত ও তার ঘোষণা। সভার ঠিক মাঝামাঝি সময়ে হাজির হলেন, ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা। উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের উৎসাহ বেড়ে তখন দ্বিগুণ। তাহলে কি আজই বোর্ড সভাপতিকে নিজের অবসর নিয়ে চূড়ান্ত কিছু জানাবেন নড়াইল এক্সপ্রেস? পাপন কি আজই জানিয়ে দেবেন, আগামি মাসেই ক্রিকেট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবেন মাশরাফি?

বিজ্ঞাপন

বিসিবির করিডোরে এই নিয়ে চলল বিস্তর গুঞ্জন। আধা ঘণ্টা বাদে মাশরাফি বেরিয়ে এলে সংবাদ মাধ্যম তার পিছু নেয়। ক্রিকেট বোর্ডের কর্পোরেট অফিস থেকে বেরিয়ে মাশরাফি সোজা চলে গেলেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে। সেই পর্যন্ত সাংবাদিকরা তার পিছু ছাড়েননি! এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে দলপতি বলে বসলেন, ‘আমার কি নতুন করে রুপ গজিয়েছে? আপনারা এভাবে আমার পেছনে আসছেন কেন?’

পিছু হটে সাংবাদিকরা ফিরে এলেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। এর ঠিক মিনিট দশেক যেতেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পাপন জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন হেড কোচ প্রোটিয়া রাসেল ডোমিঙ্গো। অনুমিতভাবে তার পরেই উঠে এল মাশরাফির অবসরের প্রসঙ্গ।

না, মাশরাফিকে যারা এখনই বিদায়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন তাদের জন্য কোন সুখবর দিতে পারেননি বিসিবি সভাপতি। বরং যা বলেছেন, সেটা তাদের জন্য আক্ষরিক অর্থে দুঃসংবাদ। কেননা আগামি মাসে জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফরে মাশরাফিকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের জন্য যে বিশেষ ম্যাচটি বিসিবির আয়োজনের কথা ছিল, সেটা হচ্ছে না। কেননা নিজের অবসরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসনের কাছে আরো দুই মাস সময় চেয়েছেন ম্যাশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মাশরাফির সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। অবসরের জন্য সে দুই মাস সময় চেয়েছে।’

এই ব্যাপারটা শুধু বোর্ডকে ভাবলেই হবে না। এটা প্লেয়ারের মাথায়ও আসতে হবে। প্লেয়ার যদি ওরকম চিন্তা না করে তাহলে তো আর লাভ হবে না। এটা প্লেয়ার চিন্তা করল না, আমি অবসর নেব না তাহলে আর লাভ হল কি? আমরা তো এটা চাই না। আমাদের কাজ হলো তাদের অবগত করা। এটাও সত্যি আমরা এই কাজটা ভালভাবে, সুন্দরভাবে করতে চাই। অতএব সিদ্ধান্ত তার কাছে। সে যদি সিদ্ধান্ত নিতে পারে নিবে। তা না হলে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।‘ যোগ করেন পাপন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ চলাকালীন লন্ডনে বসেই বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশের মাটিতে স্মরণীয় আয়োজনে বিদায় দেওয়া হবে মাশরাফি বিন মুর্ত্তজাকে। পাপন সম্ভবত জানতেন না, ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশের মাটিতে কোন ওয়্নডে নেই! আইসিসি প্রকাশিত এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্ল্যান) অনুযায়ী আগামি বছরের ডিসেম্বরে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের মাটিতে পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ প্রায় দেড় বছরের অপেক্ষা।

সেক্ষেত্রে বিকল্প ভাবনা ভেবে রেখেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক এই সংস্থাটি। অধিনায়কের বিদায় যেন প্রলম্বিত না হয় সেজন্য আগামি মাসে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে নিয়ে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিক ত্রিদেশীয় সিরিজেই আনুষ্ঠানিকতা সারতে চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু গেল মাসের শেষদিকে জিম্বাবুয়ের ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে এলে বিসিবির সেই পরিকল্পনা হোঁচট খায়।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তিন জাতির টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বিসিবির কাছে সময় চায় জিম্বাবুয়ান ক্রিকেট বোর্ড। ফলে টুর্নামেন্টন্টির সফল বাস্তবায়নে এই তাদের দিকেই তাকিয়ে বিসিবি। পরে জিম্বাবুয়ে সফর নিশ্চিত করলে মাশরাফির বিদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বিসিবি।

লাল সবুজের দিন বদলের এই দলপতিকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ এবং বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের অংশগ্রহণে তিন জাতির ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে নুন্যতম দুটি ওয়ানডে আয়োজন করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ প্রশাসন।

আরও পড়ুন: টাইগারদের প্রধান কোচ হলেন রাসেল ডোমিঙ্গো

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন