বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

একটি হিমবাহের মৃত্যু, স্মৃতি রক্ষার্থে এপিটাফ

আগস্ট ১৮, ২০১৯ | ২:২২ অপরাহ্ণ

বিচিত্রা ডেস্ক

প্রায় সাতশ বছর বয়সী ওকজোকুল নামের একটি হিমবাহের মৃত্যুতে একত্রিত হয়ে শোক প্রকাশ করেছেন আইসল্যান্ডের অধিবাসীরা। রোববার (১৮ আগস্ট) তারা হিমবাহটির স্মৃতি রক্ষার্থে একটি (এপিটাফ) স্মৃতি ফলকও তৈরি করেন।

বিজ্ঞাপন

হিমাবাহটি গলতে গলতে প্রায় শেষ অবস্থায় পৌঁছে ২০১৪ সালে প্রবাহিত হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে হিমবাহটি একটি আগ্নেয়গিরির মাথায় বরফের আস্তরণ হয়ে টিকে আছে।

ওকজোকুল হিমবাহের স্মরণে স্মৃতিফলক স্থাপন অনুষ্ঠানে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, পরিবেশমন্ত্রী ও আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পর শোকার্ত সবাই মিলে রাজধানী রায়েকজাভিক থেকে উত্তরপূর্বে আগ্নেয়গিরি পর্যন্ত হেঁটে যান। তারপর তারা সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতের প্রতিনিধিদের জন্য স্মৃতিফলকের চিঠিতে লেখা রয়েছে– ‘আগামী ২০০ বছরের মধ্যে সব হিমবাহেরই এই রকমই পরিণতি হবে। এই নামফলকটি কালের চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং আমাদের কৃতকর্ম ও দায়দায়িত্বের কথা বারবার মনে করিয়ে দেবে।’

নামফলকের লেখাটি আইসল্যাণ্ডের লেখক অ্যান্ড্রি স্নায়ের ম্যাগনাসন লিখে দিয়েছেন। তারপরই অনুষ্ঠানের তারিখ আর ওই দিনে বৈশ্বিক বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মিশ্রণ হার ৪১৫ পিপিএম উল্লেখ করা আছে।

আইসল্যান্ডের সংস্কৃতিতে হিমবাহগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্নেফেলজোকুল নামে একটি হিমবাহ পরিবেষ্টিত আগ্নেয়গিরি দেশটির পশ্চিমে অবস্থিত। পৃথিবীর কেন্দ্রের সন্ধানে জুলভার্নের যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির অভিযাত্রা, সেইখানে এই প্যাসাজের কথা উল্লেখ আছে। সেখানকার হিমবাহগুলোও এখন মৃতপ্রায়।

১৫০ বছর আগেও আইসল্যান্ডের অধিবাসীরা হিমবাহের বিলুপ্তিতে তেমন বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন না। কারণ তখন বরফ গলে চাষের জমি বের করা ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে এই হিমবাহের মৃত্যুতে আমাদের নিজেদের তো সচেতন থাকতেই হবে এবং সচেতন করতে হবে আগামি প্রজন্মকেও।

সারাবাংলা/একেএম/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন