বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘বোলিংটা খুব মিস করছিলাম’

আগস্ট ১৮, ২০১৯ | ৭:১৩ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

কাঁধের ইনজুরি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠে প্রথম দিনের বোলিংয়ে নেমে শুরুটা লো ইন্টেনসিটিতে করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। হাত পুরোপুরি ঘোরাননি। লেংথ, টার্নিং ও ফ্লাইটও খুব একটা নিখুঁত ছিল না। বল চলে যাচ্ছিল স্ট্যাম্পের এদিক ওদিক। এক ওভার এভাবেই চললো। দ্বিতীয় ওভার থেকে ইন্টেনসিটি কিছুটা বাড়ল। লেংথ নিখুঁত হলো ঠিকই কিন্তু ততটা টার্ন ছিল না। তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে যেন নিজেকে পুরোপুরি ছন্দে ফিরে পেলেন।

বিজ্ঞাপন

অনুশীলন শেষ করে যখন মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন জানালেন, ‘সাত মাস পরে ফুল ইন্টেনসিটিতে বল করলাম। আল্লাহর রহমতে কোনো ব্যথা অনুভব করিনি।’

হ্যাঁ, আদতেই সাত মাস পরে ফুল ইন্টেনসিটিতে বোলিং করলেন এই টাইগার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও অফস্পিনার। সবশেষ করেছিলেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে। সিরিজ চলকালীন কাঁধে চোট অনুভুত হলে দলের হয়ে শুধু ব্যাটিংই করেছেন। বোলিং খুব একটা করতে দেখা যায়নি। এভাবে চললো আয়ারল্যান্ড সিরিজ-বিশ্বকাপ ও সদ্য সমাপ্ত শ্রীলঙ্কা সিরিজ পর্যন্ত।

লঙ্কা অভিযান শেষে দেশে ফিরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোববার (১৮ আগস্ট) নেমে পড়লেন নিজেকে ফিরে পাওয়ার মিশনে। মিশনের প্রথম দিন শেষ করে জানালেন লম্বা এই সময়টিতে বোলিংটা ভীষণ মিস করেছেন। যেহেতু বোলিংটা তার ভালো ব্যাটিংয়ের জ্বালানি যোগায়।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বমঞ্চে বোলিং করা হয়নি, ব্যাটিংটাও প্রত্যাশিত ছিল না। তাই লম্বা সময় সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন। আজ বোলিং শেষে সেই সংবাদ মাধ্যমের সামনেই বেশ হাসিখুশি মাহমুদউল্লাহ।

তিনি জানালেন, ‘বোলিংটা আমি খুব মিস করছিলাম কারণ এটা আমাকে ব্যাটিংয়ে বাড়তি একটা আত্মবিশ্বাস দেয় বলে মনে করি। মনে হয় যে ব্যাটিংয়ে না পারলেও বোলিং দিয়ে কিছুটা দলের জন্য অবদান রাখতে পারি। এখন ভালো লাগছে। আশা করি যে সুস্থ থাকলে সামনের সিরিজে হয়তো বোলিং করতে পারব।’

বিশ্বকাপ শেষ হতেই মাহমুদউল্লাহদের প্রধান শিক্ষক স্টিভ রোডসকে বিদায় দিয়েছে বিসিবি। গতকাল তার উত্তরসূরি হিসেবে রাসেল ডোমিঙ্গকে পেয়েছে মাহমুদউল্লাহরা। অনুভূতিটা কেমন? স্বল্পভাষী মাহমুদউল্লাহর অনুভূতি বোঝা সবসময়ই দূরহ। তবে একটি বিষয় স্পষ্টতই জানালেন, তার মতো কোচ বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বেশ উপযোগী।

মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন, ‘ওভাবে কথা হয়নি ওনার সঙ্গে। আগে পরিচয় ছিল না এখন হবে। আর যেহেতু উনার প্রফাইল বেশ সমৃদ্ধ। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ ছিলেন কয়েক বছর এবং ভালো কাজই করেছেন দলটির জন্য। আমার মনে হয় উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারব এবং বাংলাদেশ দলের জন্য সেটা ভালো হবে।’

স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরির প্রসঙ্গ উঠতেই চোখে-মুখে স্বস্তির স্ফুলিঙ্গ খেলে গেল। বললেন, ‘অবশ্যই বড় বোলার ছিলেন উনি। এত বড় একজন কোচ। তো অবশ্যই উনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারব। ব্যক্তিগতভাবে আমার বোলিং নিয়ে কথা বলব উনার সাথে।’

কোচিংস্টাফ নিয়ে শেষটায় মাহমুদউল্লাহ যা বললেন তাতে এটা স্পষ্ট তুষ্ট ও তৃপ্ত তিনি, ‘নেইল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে অনেকদিন ধরেই কাজ করছি। সে অসাধারণ একজন ব্যাটিং কোচ। আমি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলি ব্যাটিং নিয়ে। তার কিছু কিছু আইডিয়া ও ইনফরমেশন আমার ব্যাটিংয়ের জন্য খুব উপকারী হবে। আর ভেট্টরি আছেন, ল্যাঙ্গাভেল্ট আছেন, উনার সঙ্গে আমি খেলেছিও শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে। উনি খুব ভালো মানুষ। আর উনার ক্যারিয়ারই বলে উনি কত ভালো বোলার ছিলেন। আমার মনে হয় পেস বোলারদের জন্য খুব ভালো হবে। আমাদের কোচিং প্যানেল খুবই হাই-প্রফাইল। এটা আমাদের সবার জন্যই খুব ভালো একটা ইতিবাচক দিক।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমআরএফ/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন