বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

খোলা আকাশের নিচে নির্ঘুম রাত!

আগস্ট ১৯, ২০১৯ | ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ

হাবিবুর রহমান, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: খোলা আকাশের নিচে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সবকিছু আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া রাজধানীর মিরপুরের চলন্তিকা বস্তির বাসিন্দারা। সেদিন ভয়াবহ আগুনের কাছে হার মেনে তাদের এক কাপড়ে ছাড়তে হয়েছিল তিল তিল করে গড়ে তোলা ঘর-সংসারসহ শেষ সম্বলটুকুও। আজ তারা খোলা আকাশের নিচে ও স্কুলের ভেতরে-বারান্দায় নিদারুণ জীবনযাপন করছেন। আর এই অনিশ্চিত জীবনযাপনের পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে মাত্র তিনঘণ্টার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মিরপুরের চলন্তিকা বস্তির হাজারও মানুষের স্বপ্ন। তাদের মাথা গোজার ঠাঁইও এখন ছাই হয়ে পড়ে আছে। ওই আগুনে পুড়েছে প্রায় তিন হাজার ঘর।

রোববার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে ওই এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তির বাসিন্দাদের কেউ কেউ স্থানীয় বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনের ভেতরে, কেউবা বারান্দায় আবার কেউবা বেঞ্চে বসে ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া কেউ কেউ রয়েছেন খোলা আকাশের নিচেও। আগুনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এখন অনিশ্চতায় রয়েছে এই বস্তির হাজারও মানুষের জীবন।

বিজ্ঞাপন

বস্তিতে এখন খাবার নেই, বাসিন্দাদের পরিধানের কোনো কাপড়ও নেই। সর্বগ্রাসী আগুন কেড়ে নিয়েছে সব। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বস্তিবাসীর হাহাকারে রীতিমতো ভারি হয়ে উঠছে আশপাশের পরিবেশ। এই বস্তির সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। অধিকাংশই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। বস্তির একপ্রান্তে আগুন লাগার এক ঘণ্টা পর অপর প্রান্তেও তা ছড়িয়ে পড়ে। ছুটি থাকায় ঘরের ব্যবহার্য জিনিসপত্র বের করার মানুষ ছিল না সেখানে। তবে বস্তি প্রায় ফাঁকা থাকায় অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় কোণো প্রাণহানি ঘটেনি।

মাদারীপুরের নান্নু মিয়ার (৬০) ১২টি ঘর ছিল এ বস্তিতে। তিনটি ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। বাকি ঘরগুলো ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় নির্বাক তিনি।

ময়মনসিংহে ঈদ পালন করতে গিয়েছিলেন মিতু বেগম। আগুনের খবরে ছুটে এসেছেন রাজধানীতে। তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্বামী বাবুর্চি। তিনি বলেন, ‘এসে দেখি কিছুই নাই। খালি টিন। যা ছিল সব চুরি হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।’

রিকশাচালক আবদুস সাত্তার (৫৫) চারটি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। পুড়ে যাওয়া ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তিনি। পরিবার নিয়ে পাশের একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে তার পরিবার। আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া শারমিন নামে এক নারী বলেন, ‘সব শ্যাষ হইয়া গেল। এখন মাইনষের পাতে চাওন ছাড়া উপায় নাই।’

এই বস্তির তিনটি ঘরে ছয়জনের পরিবার নিয়ে থাকতেন মোমেনা বেগম। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তার স্বামী ট্রাক চালক। ঈদের আগে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে কিনেছিলেন নতুন টেলিভিশন ও ফ্রিজ। সেগুলোও পুড়ে গেছে ভয়াল আগুনে।

এরকম হাজারও মানুষের আক্ষেপ ও হতাশায় এখন চলন্তিকা বস্তি এলাকার বাতাস ভারি হয়ে আছে। কেউ জানে না কবে নাগাদ তাদের পুনর্বাসন করবে সরকার। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে সাহায্য প্রদানের দাবি জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন