বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

এরশাদের আসনেও জাপাকে ছাড় দেবে না আ.লীগ, থাকছে বিএনপি

আগস্ট ১৯, ২০১৯ | ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

আজম পারভেজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

রংপুর: শূন্য ঘোষিত রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে কোন কোন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, মনোনয়নই বা পাচ্ছেন কারা— এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই। জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে পরিচিত এ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে এরশাদের হাতে গড়া দলটি। অন্যদিকে, বিগত নির্বাচনগুলোয় ছাড় দিলেও এবার জাপাকে ছাড় দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বিএনপিও উপ-নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে উপ-নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রংপুর।

রংপুরে এখন ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন-লিফলেটে চলছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা। দলীয় ও ভোটারদের দোয়া-সর্মথন চাওয়া হচ্ছে সাঁটানো ফেস্টুন আর ব্যানার-পোস্টারে। কেউ আবার গণসংযোগ, মতবিনিসয়, মানববন্ধন ও উঠান বৈঠকও শুরু করেছেন। জনসর্মথন পেতে রংপুর মহানগর এলাকাসহ সদর উপজেলার পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

র্দীঘ ২৮ বছর ধরে এ আসনে জাতীয় পার্টির জয় ধরে রেখেছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এবারও সেই ধারাবাহকিতা ধরে রাখতে চায় দলটি। এরই মধ্যে মনোনয়নের দাবিতে মাঠে নেমেছে দলটির বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা। পাশাপাশি আলোচনায় আছেন এরশাদের বড় ছেলে রাহগীর আল মাহী এরশাদ ওরফে সাদ এরশাদের নাম।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, ‘রংপুরের মানুষকে বাইপাস করে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন তারা বিমুখ হবে। এটা জাতীয় পার্টির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর আগে সিটি করপোশন নির্বাচনে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে লাঙল মার্কা জিতেছিল। সেখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবাই অংশ নিয়েছিল। তাই পার্টির লোকদের এক থাকা জরুরি। উপ-নির্বাচনে আমার নাম প্রস্তাব করে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে আমাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমি তো রংপুরের মানুষ, রংপুরের ছেলে, সে হিসেব হয়তো তারা চেয়েছে। যদি এটার মূল্যায়ন করা হয়, আমাকে নমিশন দেওয়া হয় তবে আমি নির্বাচন করবো।’

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফজিুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘যদি মহাজোটের ব্যানারে নির্বাচন না হয় সেক্ষেত্রে আলাদা করেই নির্বাচন করার সুযোগ থাকছে। সেভাবে নির্বাচন হলে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার। হঠাৎ করেই রাজনীতিতে এসে কিছু করা যায় না। এটা করতে অনেক সময়ের দরকার। কেন্দ্র কি ভাবছেন আমি জানি না, তবে যাদের জনসম্পৃক্ততা আছেন এমন কাউকেই এখানে মনোনয়ন দেওয়া দরকার। হুট করে কোনো প্রার্থীকে চাপায়ে দেওয়া হলে তাকে বিজয়ী করা কঠিন হয়ে যায়।’

গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট করায় এইচ এম এরশাদ এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে উপ-নির্বাচনে আর জাপাকে ছাড় দিতে চাইছে না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান জানান, অবশ্যই আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে এবং তিনি নিজেও মনোনয়নপ্রত্যাশী। আশা করছেন বিগত ৪ বার যেমন মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবার আওয়ামী লীগ তাকেই মনোনয়ন দেবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজুও মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘রংপুরবাসী নির্বাচনে তাদের স্থানীয় লোক চায়। সুখে, দুখে পাশে থাকবে এমন লোক চায়। মহাজোটের বাইরে নির্বাচন হলে তো কোনো সমস্যা নেই। লোকজন উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চায়, নৌকা মার্কায় ভোট দিতে চায়। সবাই মিলে নির্বাচনে অংশ নিলে তো সমস্যা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে তো কোনো সমস্যা নেই।’

পাশাপাশি উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে চায় বিএনপি। দলের হাই কমান্ড থেকে আসনটিতে নির্বাচনের গ্রিন সিগনাল পাওয়ার পর থেকেই সরব হয়েছেন দলটির নেতাকর্মী। বিগত সময়ের ভোটের পরিসংখ্যানে খুব একটা শক্ত অবস্থানে না থাকলেও দলটির নেতারা বলছেন আসন্ন উপ-নির্বাচনে তারাই হবেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বি।

রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এবারের উপ-নির্বাচনটা অনেক হিসেব-নিকেশের মধ্য দিয়ে হবে। ঠিকমতো প্রার্থী নির্বাচন করা গেলে এখানেই বিএনপিরই জয় হবে। আমি যতটুকু জেনেছি এবার বিএনপিকে ভোট দিতে জনগণ উদগ্রীব হয়ে আছে।’

রংপুর মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাওছার জামান বাবলা বলেন, ‘ফলাফল যাই হোক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আমাদের কর্মী আছে, আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০টা করে মামলা আছে। এখন সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন চায় তাহলে এগুলো শিথিল করতে হবে। যেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কোনো পুলিশি হেনস্থা না হতে হয় সেটিও দেখতে হবে। তাহলে সবাই মিলে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারবো। এটা আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ গত ১৪ জুলাই মারা গেলে ১৬ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। শূন্য ঘোষণার দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে রংপুর-৩ সদর আসনে নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন