সোমবার ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

তিন তালাকের বিরুদ্ধে থানায় যাওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

আগস্ট ১৯, ২০১৯ | ২:২০ অপরাহ্ণ

রোকেয়া সরণি ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে যাওয়ায় এক নারীকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তীর গাদ্রা গ্রামে ওই নারীর ৫ বছরের মেয়ের সামনেই তাকে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত নারীর নাম সাঈদা। তিনি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। তার স্বামী নাফিস (২৬) মুম্বাইতে কাজ করেন।

সাঈদার বাবা রমজান খানের বরাত দিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত ৬ আগস্ট মুম্বাই থেকে নাফিস টেলিফোনে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেন। এই ঘটনার পর সাঈদা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। কিন্তু তার অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। তারা সাঈদাকে নাফিসের মুম্বাই থেকে ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) নাফিস বাড়ি ফিরলে স্ত্রীসহ তাকে থানা থেকে ডেকে পাঠানো হয়। দুজনের সঙ্গে কথা বলে সাঈদাকে তার স্বামীর সঙ্গেই থাকার পরামর্শ দেন।

এর পরদিনই সাঈদাকে তার পাঁচ বছরের মেয়ে ফাতিমার সামনেই শরীরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেন নাফিস ও তার বাড়ির লোকজন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের কাছে ফতিমা জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ আগস্ট) তার বাবা নামাজ পড়ে এসে মাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। তিনি তিন তালাক দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন। এরপরই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

ফাতিমা বলে, 'আমার দাদা আজিজুল্লাহ, দাদী হাসিনা, দুই ফুফু গুড়িয়া ও নাদিয়া আসে। তারপর বাবা মায়ের চুল ধরে পেটাতে থাকে। ফুফুরা মায়ের শরীরে কেরোসিন ঢালে। দাদা-দাদী মিলে মায়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।'

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাঈদার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি জানিয়ে সাঈদার ভাই রফিক বলেন, 'আমি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাব।'

শ্রাবস্তীর পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নাফিস ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে খুন, পণের দাবিতে হেনস্থার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তিন তালাকের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় পুলিশের অবহেলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন ওই থানার পুলিশ সদস্যরা সাঈদার অভিযোগ আমলে নেয়নি সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। এই ঘটনা সত্যি হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভারতে তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। সবশেষ গত জুলাই মাসে তিন তালাক প্রথাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে একটি আইন অনুমোদন করে ভারতের পার্লামেন্ট। এই আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন