সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা আর মর্যাদার লড়াইয়ের দুই বছর

আগস্ট ১৯, ২০১৯ | ২:৫০ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে সাত লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারস্থ বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। দুই বছর ধরে জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোর সীমিত পরিসর আর অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।

বিজ্ঞাপন

গত দুই বছরে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গার জন্য জরুরি খাদ্য, খাবার পানি এবং আবাসনের ব্যবস্থা করেছে। ১১ ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধার অধীনে ২ লাখ ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার জন্য চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ৬০ মিলিয়ন লিটার বিশুদ্ধ খাবার পানি ইতোমধ্যেই ক্যাম্পগুলোতে সরবরাহ করেছে তারা।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জনপ্রতি ২৪ বর্গফুট জায়গা নিয়ে মিয়ানমারের নাগরিকেরা বসবাস করছেন। ক্যাম্পের জনবহুল অংশগুলোর কোথাও কোথাও এই হিসাব জনপ্রতি ১০ বর্গফুটে নেমে এসেছে। যদিও আন্তর্জাতিক আদর্শ অনুসারে জনপ্রতি নূন্যতম ৩০ বর্গফুট জায়গার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) অন্যান্য সহযোগীদের সাথে সমন্বয় করে রোহিঙ্গাদের আবাসনের মানোন্নয়ন এবং দুর্যোগে ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ বাসস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে তাঁবুতে বসবাসকারীরা ঐচ্ছিকভাবে এসব উন্নত এবং নিরাপদ বাসস্থানে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। শুধুমাত্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীই নয়, স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির দরিদ্রতম ২৪৫ পরিবারের জন্য উন্নত এবং নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অপারেশন প্রধান সৈয়দ আলী নাসিম খলিলুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই আবাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমাদের সামনে আসে। সেসময় জরুরি ভিত্তিতে সবার মাথার উপর নামমাত্র ছাদের ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন যেহেতু আমরা দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তাই উন্নত এবং নিরাপদ আবাসনের কোন বিকল্প নেই।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও আইএফআরসি এর কক্সবাজার সাব অফিসের প্রধান সঞ্জীব কুমার কাফলে বলেন, এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে তাকালে আমরা দেখি হাজার হাজার মানুষ খুব সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে বসবাস করছেন। তাদের এই অবস্থার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন