বিজ্ঞাপন

এফআর টাওয়ারে আগুন: জামিন পেলেন কাসেম ড্রাইসেলের এমডি তাসভীর

August 19, 2019 | 4:36 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৫ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কাসেম ড্রাইসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ভবনটির অন্যতম মালিক তাসভীর উল ইসলাম জামিন পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এসময় তাসভীর উল ইসলামের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহেসানুল হক সামাজী তার জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, মোশাররফ হোসেন কাজল ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীরসহ রাষ্ট্রপক্ষের দুদকের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।

বিজ্ঞাপন

সব পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ ২০ হাজার টাকা বন্ডে আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত তাসভীরের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে, এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার ঘটনায় গত ৩০ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশান এলাকা থেকে তাসভীরকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাকে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ১১ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন তাকে জামিন দেন।

পরে নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নিমার্ণের অভিযোগে এফ আর টাওয়ারের মালিক, রাজউকের প্রাক্তন দুই চেয়ারম্যান এবং রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান, কাশেম ড্রাইসেলের এমডিসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুদক। এই মামলায় গতকাল রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে তাসভীর উল ইসলামকে গ্রেফতার করেন দুদকের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক। একই মামলায় গত ৩০ জুলাই রাজউকের সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলমকেও গ্রেফতার করেছিল দুদক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৫ তলার অনুমোদন থাকলেও অবৈধ নকশা ব্যবহার করে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে গড়ে তোলা হয় এফআর টাওয়ার। ১৫ তলা নকশার অনুমোদনেও মানা হয়নি কোনো নীতিমালা। নেই ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের অনুমোদন। ১৮ থেকে ২৩ তলা নির্মাণের কোনো তথ্যই নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে। জমির মালিক ও ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি প্রশাসনের নাকের ডগায় নিজ সিদ্ধান্তে নির্মাণ করেছে বাকি পাঁচতলা। যারা আসামি হয়েছেন তারা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারের ৮তলা থেকে আগুন লাগে। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়।

সারাবাংলা/এআই/এমও/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন