মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

১০ রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম তদন্তে ৩ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

আগস্ট ২১, ২০১৯ | ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো ও নিয়ন্ত্রণকারী ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেটের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ কমিটিকে তদন্ত শেষ করতে তিন মাসের সময় বেধেঁ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল না করলে কমিটির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হাইকোর্ট জানায়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন শেখ জালাল উদ্দিন।

পরে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, ‘ছয়মাসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। ছয়মাস পার হয়ে এখন প্রায় ১০ মাস শেষ হতে চলেছে। এতদিনেও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

আদালত বলেছেন, ছয় মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা এখন ১০ মাস পার হয়ে যাচ্ছে। তারপরও বার বার এসে সময় চাচ্ছেন।

আইনজীবী রাশনা ইমাম জানান, এ অবস্থায় আমরা কমিটিকে কার্যপরিধি ঠিক করে দিতে আদালতে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচটি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

পাচঁ কার্যপরিধি হলো- ১. ২০১৭ সালের ১০ মার্চ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই দুই বছরে কোন কোন রিকুটিং এজেন্সি শ্রমিক পাঠাতে পেরেছে এ তথ্য দিতে হবে। এতে যদি দেখা যায় এই ১০ জন ছাড়া কেউ শ্রমিক পাঠাতে পারেনি তাহলে তাতেই প্রমাণ হয়ে যাবে তাদের একটা সিন্ডেকেট ছিল।

২. মাইগ্রেশন খরচ বাবদ প্রতিটা শ্রমিক থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা করে। তারপর এটাকে একটু বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু দেখা গেছে প্রত্যেক শ্রমিক থেকে চার লাখ করে নেওয়া হয়েছে। এ দুই বছরে বিদেশে গেছে ২ লাখ ৮৫ হাজার শ্রমিক। তার মানে কয়েকশ কোটি টাকার ব্যাপার।

৩. মালেয়শিয়া থেকে যখন সিদ্ধান্ত এলো ১০ জনের মাধ্যমেই শ্রমিক পাঠাতে হবে তখন এখান থেকে প্রতিবাদ করা হয়েছে। ১১ নম্বর বিবাদী নুর আলী, যিনি এই সিন্ডিকেটের মাস্টার মাইন্ড। তিনি সরকারের কাছে একটা প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন, এক একজন সিন্ডিকেটের আরও ২০ জন করে রিক্রুটিং এজেন্সি অন্তর্ভুক্ত তাতে ২শ জন হয়ে যায়। এই ২শ জনের মাধ্যমে আমরা বিদেশে শ্রমিক পাঠাবো। ধীরে ধীরে সবাইকে তাতে যুক্ত করব। তখন সরকার এটাকে অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এটাকে তদন্ত করে দেখতে বলেছি সবাইকে মিলে মিশে পাঠিয়েছিল নাকি ১০ জনই পাঠিয়েছে।

৪.মালেয়শিয়ায় বা বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে হলে শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা করতে হয়। মালয়েশিয়ার জন্য ২৬টি মেডিকেল সেন্টার খোলা হয়েছিল। এই ২৬টার মধ্যে ৮টা ছিল সিন্ডিকেটের। দেখা গেছে, যেখানে মেডিকেল পরীক্ষার ফি ছিল ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা। কিন্তু তারা নিয়েছে ৫ হাজার ৩শ টাকা করে। পাঠিয়েছে ৩ লাখ শ্রমিকের মত। আর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে ৫ লাখের মত। যারা যেতে পারেননি তাদের মেডিকেল পরীক্ষার টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এই মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কত টাকা আদায় হয়েছে সেটাও খুঁজে দেখতে হবে।

৫. জনশক্তি কর্মকসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল আলমসহ চারজন সংসদ সদস্য মালেয়শিয়া গিয়েছিলেন সিন্ডিকেটের বিষয়ে তদন্ত করতে। পরে ইসরাফিল আলম বেসরকারি চ্যানেল এটিএন বাংলার একটা ওপেন টকশোতে বলেছিলেন, তদন্ত করা উচিত। শ্রমিকদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে তা পাচার হয়েছে কি না সেটাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের অন্যান্য অনিয়মও তদন্ত করতে পারবে কমিটি।

গত ২৬ জুন মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ নিয়ন্ত্রণকারী ১০ রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট ও তাদের অনিয়ম তদন্ত ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে করতে বলেন। কিন্তু কমিটি প্রতিবেদন দাখিল না করে আবারো সময় চান।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিন্ডিকেটের অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে কমিটি গঠন করেছন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কমিটিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করা হয়।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ন্ত্রণকারী ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আদালত। মালেশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি উপেক্ষা করে ১০ এজেন্সির মাধ্যমে লোক নেওয়ার ঘটনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বঞ্চিত অপর ১০টি এজেন্সি হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

সারাবাংলা/এজেডকে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন