বুধবার ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ১ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিধি না মানায় চট্টগ্রামের ১৬ ওসিকে সতর্ক করলেন আদালত

আগস্ট ২১, ২০১৯ | ১০:২১ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার আসামিদের বিচারিক আদালতে হাজির না করে বিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করায় চট্টগ্রাম জেলার ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের সকল পরিদর্শককে সতর্ক করেছেন আদালত। এছাড়া ভবিষ্যতে আইন লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমীর দেওয়া এই আদেশ পৌঁছেছে জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন শাখায়। মঙ্গলবার আদালত এই আদেশ দিয়েছিলেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) সুব্রত ব্যানার্জী সারাবাংলাকে বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে ওসিদের সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন আদালত। ইউএনও-এসি ল্যান্ডদের বিষয়েও আদালত বলেছেন। এটা নেতিবাচক কোনো বিষয় নয়। কিছু আইনি বিষয় আদালত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।’

যে ১৬ থানার ওসির কাছে আদালতের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- মীরসরাই, জোরারগঞ্জ, সীতাকুণ্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, ভুজপুর, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, পটিয়া চন্দনাইশ, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী এবং সন্দ্বীপ। এছাড়া রেলওয়ে থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসির কাছেও নির্দেশনা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য আমলে নিয়ে আদালত আদেশে বলেছেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার অধীন থানার ওসিরা আটক আসামিকে নিয়মিত আদালতে হাজির না করে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ইউএনও) অথবা সহকারী কমিশনার ভূমির (এসি-ল্যান্ড) কাছে হস্তান্তর করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ লঙ্ঘন করে আসামিদের আইন বর্হিভূতভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিচ্ছেন, যা দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আদেশে আদালত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত আইনও উল্লেখ করেছেন। মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ৬ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ আইনের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার সময় কোনো অপরাধ, যা কেবল তার সামনে সংঘটিত বা উদঘাটিত হয়ে থাকলে, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই উক্ত অপরাধ আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে এ আইনে নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগ করতে পারবেন।’

২০১৬ সালে এমন একটি ঘটনায় ইউএনও এবং ওসির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং আদেশ দিয়েছিল, যা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকলের জন্য প্রযোজ্য বলে চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদেশে উল্লেখ করেছেন।

এ অবস্থায় মোবাইল কোর্ট আইন এবং হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পুলিশ ধৃত আসামিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওসিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করা হবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

আদালত পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, রেলওয়ে পুলিশ সুপার, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, পিবিআই, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলার সকল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, রেলওয়েসহ ১৭ থানার ওসি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসিকে আদেশের অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন