বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

রামপুরায় এক ভবনেই ১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

আগস্ট ২২, ২০১৯ | ২:৪০ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: রাজধানীর পূর্ব রামপুরায় বনশ্রী এলাকায় তিতাস রোডে ‘লুমিনাস স্বপ্ন চূড়া’ নামে নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে ১৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

নির্মাণাধীন ‘এল সাইজের’ বিশাল আয়তনের এই ভবনের ৭২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি ফ্ল্যাটে ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়িসহ নানা পেশার লোকজন বসাবাস শুরু করেছেন। আর বসবাসকারীদের মধ্যেই ১৫ জন ডেঙ্গু জীবানুবাহি এডিস মশার কামড়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ভবনের বাসিন্দারা জানান, ওই ভবনের ডেভলপিংয়ে নিয়োজিত প্রকৌশলী রেজওয়ান এবার আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর একে একে অন্যরাও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এ পর্যন্ত ১৫ জন বাসিন্দা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র সাংবাদিক মো. দিদারুল আলম দিদারের ৮ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আদিব। সে গত ৫ আগস্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর সাংবাদিক দিদারুল আলমের স্ত্রী ডাক্তার সৈয়দা ফারজানা আফরিনও গত ১৭ আগস্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

ওই ভবনের আরেক বাসিন্দা ‘আমাদের সময়’ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক আবুল হাসান হৃদয়ের ৩ বছর বয়সী ছেলে ফিদেল গত ৯ আগস্ট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। ওই ভবনের বাসিন্দা আইটি ব্যবসায়ি সুমনের স্ত্রী ও সন্তানসহ ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মজিবর রহমানের ৩ সন্তানও চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ওই ভবনের বাসিন্দারা রীতিমতো এডিস মশার আক্রমণ এবং ডেঙ্গু জ্বরের আতঙ্কে রয়েছে। অনেকই ওই ভবনটিকে এডিস মশা উৎপাদনের ফ্যাক্টরি বলে মন্তব্য করছেন।  বাসিন্দারা জানান, নির্মাণীন এই ভবনটির ভেতরে, ছাদে এবং আশ পাশে এডিস মশার প্রজনন কেন্দ্র। ভবনের ছাদের সব সময় পানি জমে থাকায় অনেক আগাছা, লতাপাতা জন্ম হচ্ছে, ভেতরে সিঁড়ির গোড়ায় এবং লিফট বসানোর জন্য ফেলে রাখা খালি জায়গায় অনেক আর্বজনা পড়ে রয়েছে।

তারা জানান, ৭২টি ফ্ল্যাটের জন্য ৪টি লিফটের ব্যবস্থা রাখা হলেও মাত্র ২টি লিফট বসানো হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৩২টি ফ্ল্যাটে বাসিন্দারা বসবাস করছেন, আর বাকী ৪০টি ফ্ল্যাটে এখনো কেউ উঠেনি।

তারা আরো জানান, ২০১৪ সালের মধ্যে এই ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেও ফ্ল্যাট মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘লুমিনাস স্বপ্ন চূড়া’ ভনটির ডেভলপার কোম্পানীর মালিক নুর কুতুবুল আলম জহির রহস্যজনক কারণে এই ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করছেন না।

সারাবাংলা/ এজেডকে/টিএস

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন