বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ধান কেনার প্রক্রিয়া ও কৃষকের তালিকা যাচাইবাছাই হচ্ছে

আগস্ট ২৩, ২০১৯ | ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সঠিক প্রক্রিয়ায় ধান কেনা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া ধান কেনার জন্য শুধু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন না বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি তথ্য সার্ভিস মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরষ্কার পাওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংবর্ধনা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে, তিনি কৃষি প্রেস ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।

মন্ত্রী বলেন,  ‘কৃষক যাতে সামনের মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য পায় আমরা তা নিশ্চিত করবো। ইতোমধ্যে যে ধান কেনা হয়েছে, কৃষকের সেই তালিকা আমরা সংগ্রহ করবো। সেই তালিকা আমরা যাচাইবাছাই করে দেখবো তারা প্রকৃত কৃষক কিনা। এ লক্ষ্যে আগামীকালই চিঠি দেওয়া হবে। ধান কেনার ক্ষেত্রে আমরা শুধু খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভরশীল হবো না।’

আরও পড়ুন- ‘পুরস্কার নয়, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য চাই’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই ফিলিপাইনে এক লাখ টন চাল রফতানি করা হবে। এজন্য একজন ব্যবসায়ী এলসি খুলেছে বলেও জেনেছি।’

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশে এবার কৃষি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এবার কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ৩৪ শতাংশ। কৃষি বিপনন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা হবে, এজন্য কৃষি বিপনন সংস্থার আরও সংস্কার করা হবে। তারা শুধু কারওরান বাজার গিয়ে বাজারদর লিখবে আর তা প্রচার করবে তা হবে না। আন্তর্জাতিক বাজার ও মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সঙ্গেও তাদের কথা বলতে হবে।’

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এলিট শ্রেণির মানুষ আগে কৃষিতে আসতো না। কৃষি অনেকটা গালিই ছিল। চাষা বলে অবজ্ঞা করা হতো। কৃষির অবস্থা এখন আর আগের মতো নেই। এখন এলিট শ্রেণির মানুষও এই পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। দেশ খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে, ধান ও চাল এখন উদ্বৃত্ত থাকে। কিন্তু ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।’

তাই আগামী মৌসুমে বোরো বা আমন চাষ করে কোনোভাবেই যেন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ না হয় তা লক্ষ্য রাখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। যান্ত্রিকীকরণে কৃষকে আরও বেশি প্রণোদনা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া পার্বত্য চট্রগ্রাম এলাকায় কাজু বাদাম ও কফি চাষ সম্প্রসারণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভিয়েতনাম থেকে কফি ও কাজু বাদামের চারা নিয়ে আসবো এবং সেগুলো চাষ করতে সারাদেশে বিতরণ করা হবে। কাজু বাদাম ও কফি চাষের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে আমরা কয়েকজন কৃষককে ভিয়েতনাম পাঠাবো।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষক পদক প্রাপ্তদের এআইপি (এগ্রিকালচার ইমপর্টেন্ট পার্সন) কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে সিআইপি কার্ডের মতো বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক ড.মো নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান, কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপরিচালক রেজাউল করিম প্রমুখ।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন