বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু: আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও

আগস্ট ২৩, ২০১৯ | ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে অতীতের সব পরিসংখ্যান। চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৮ হাজার ৭৮২ জন। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গুতে। বছরের প্রথম আট মাসেই ৯৪ জন চিকিৎসক, ১৩০ জন নার্স ও ৭৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এই তথ্য জানায়।

কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শুধু সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৬০ জন চিকিৎসক, ৭২ জন নার্স ও ৩৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৮৩ জন। ১৮ জন এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎধীন।

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা দেওয়া সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। এই হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৫১৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আর এই হাসপাতালেরই ২৫ জন চিকিৎসকসহ ৬২ জন স্বাস্থ্যকর্মী এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচাইতে বেশি চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের ১৩ চিকিৎসক,  চার নার্সসহ ১৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. রাশিদুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘জুন ও জুলাই মাসের পরে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সকল স্টাফরা রোগীদের সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছি। রোগীদের সেবাদানে কোনোভাবেই আমাদের নৈতিক মনোবল হারানো যাবে না আর এটাই আমাদের সকল ডাক্তারদের শক্তি।’

এছাড়াও মিটফোর্ড হাসপাতালে দুই হাজার ৮৪৯ জন বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ৩৯৭ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই হাসপাতালের চারজন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে দুই হাজার ৪৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৩২৮ জন। এই হাসপাতালের ১১ জন চিকিৎসক এবং ১৪ জন নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪৬ জন। এই হাসপাতালে চলতি বছরে ৯২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই হাসপাতালের চারজন চিকিৎসক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসক এবং ২২ জন নার্স ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। এই হাসপাতালে বর্তমানে ৩১৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। চলতি বছর এই হাসপাতালে ২ হাজার ৬০২ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চলতি বছরে ৮২৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৭১ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এই হাসপাতালেও এবার ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন দুই জন চিকিৎসক ও তিন জন নার্স।

পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে চারজন নার্সসহ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী। এই হাসপাতালে চলতি বছরে ৩১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমান ১৭ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চারজন চিকিৎসক, তিনজন নার্সসহ সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তি আছেন তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী। এই হাসপাতালে ২ হাজার ৩ জন রোগী বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ভর্তি আছেন ২৪৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।

এছাড়াও রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে সাতজন চিকিৎসক, ২৭ জন নার্স ও ছয়জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৪০ জন এবং ল্যাবএইড হাসপাতালে  ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন একজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সসহ চারজন। সেন্ট্রাল হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক ও ১৭ জন নার্স এবং সেন্ট্রাল হাসপাতালের তিনজন চিকিৎসক, ১৭ জন নার্স ও ৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২৪ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্সসহ দুইজন, খিদমা হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসক, দুইজন নার্স এবং ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১০জন, হাই কেয়ার হাসপাতালে দুই জন নার্স ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) মোট ৮০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে মোট ৪৭ জনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এদের মধ্যে কোনো স্বাস্থ্যসেবাদানকারী কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী আছেন কিনা তা জানা যায় নি।

তবে, বেসরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও ১৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন তপন কুমার মণ্ডল নামে এক স্বাস্থ্য সহকারী। তিনি রাজধানীতে সরকারি আদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে অংশ নিতে এসেছিলেন। তপন কুমার মণ্ডল মাদারীপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী ছিলেন।

সারাবাংলা/এসবি/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন