বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পুলিশ পরিচয়ে প্রাইভেটকার ছিনতাই, র‌্যাবের হাতে আটক

আগস্ট ২৩, ২০১৯ | ৪:১২ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পুলিশ পরিচয়ে প্রাইভেট কার ছিনতাই ও ড্রাইভারকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। একই সঙ্গে অপহৃত চালককেও উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ানবাজার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব ৪'র সিইও অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হোসেন।

বিজ্ঞাপন

র‌্যাবের এই সিইও জানান, চক্রটি প্রথমে মাদারীপুর যাওয়ার কথা বলে প্রাইভেটকার ভাড়া করে। এরপর পদ্মানদী পার হয়ে কাঠালবাড়ি এলাকা পর্যন্ত পৌঁছালে সেখানে মহাসড়কের পুলিশ পরিচয়ে টর্চলাইটের সিগন্যাল দিয়ে গাড়িটি থামায় চক্রের আরও তিন সদস্য। এসবের কোনো কিছু টের পাওয়ার আগেই গাড়ির চালক এনায়েতুল্লাহর হাত-পা বেঁধে তাকে জিম্মি করে ফেলে চক্রটি।

তিনি বলেন, প্রাইভেটকার চালক এনায়েতুল্লাহকে জিম্মি করে তারা মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা আদায় করতে চেয়েছিল তার পরিবারের কাছ থেকে। কিন্তু তার আগেই র‌্যাবের কাছে অভিযোগ আসায় দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে আটক এবং অপহৃত এনায়েতুল্লাহকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভিকটিমের গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক চক্রের চার সদস্য হল- শাহ জালাল (৩২), ফয়সাল (২২), জয়নাল হাজারী (৩০) ও রাকিব (২২)।

র‍্যাব ৪'র সিইও অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হোসেন আরও বলেন, এনায়েতুল্লাহ প্রাইভেটকারে ভাড়ায় যাত্রী আনা-নেওয়া করে। ৪ দিন আগে মিরপুর এলাকা থেকে ২ জন যাত্রীবেশে এনায়েতুল্লাহর গাড়ি ভাড়া করে। এরপর ওই দুই যাত্রী নিয়ে এনায়েতুল্লাহ পদ্মা পাড়ি দিয়ে কাঁঠালবাড়ি এলাকায় পৌঁছায়। এসময় রাত আনুমানিক ২ টার দিকে সেখানে মহাসড়কে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সিগন্যাল দেন আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়দানকারী ভূয়া তিন সদস্য। ওই তিন সদস্য সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল। কারণ গাড়িতে থাকা ওই দুইজন যাত্রীর সঙ্গেই তাদের আগে থেকে যোগাযোগ হচ্ছিল। তাই গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে উঠে যায় তারা এবং এনায়েতুল্লাহকে বেঁধে ফেলে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এরপর ভিকটিমকে মাদারীপুর জেলার শিবচরের দত্তপাড়া চর এলাকার কাশবন এর পাশে একটি ছোট ঘরে আটকে রাখে। আর প্রাইভেটকারটি ফরিদপুরের আটরশি জাকের মঞ্জিলের পার্কিংয়ে রাখে। তারপরই চক্রের সদস্যরা ভিকটিমের বাড়িতে ফোন দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে খুন করবে বলে হুমকি দেয়। এসময় ভিকটিমকে পিটিয়ে তার বাবা মার কাছে ফোন দিয়ে কাঁন্নার শব্দ এবং চিৎকার শোনায় চক্রটি।

তিনি আরও বলেন, ২০ আগস্ট মুক্তিপন চেয়ে ফোন করা ওই মোবাইল ফোন নাম্বার এর জের ধরে ৫২ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে অপহৃত ভিকটিমকে মুক্ত ও ফরিদপুর থেকে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে র‌্যাব। এ সময় অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, অপহরণকারীচক্রের সদস্যরা গত তিন বছর ধরে এমন কাজ করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।

সারাবাংলা/এসএইচ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন