রবিবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

যাত্রা শুরু করেছে ‘নিউক্লিয়ার টাইটানিক’

আগস্ট ২৩, ২০১৯ | ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রথম ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘অ্যাকাডেমিক লমোনোসভ’ সমুদ্রযাত্রা শুরু করেছে। পারমানবিক জ্বালানীতে ভরা জাহাজটি শুক্রবার (২৩ আগস্ট) আর্কটিকের মুরমানস্ক বন্দর থেকে রাশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সাইবেরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ যাত্রায় জাহাজটি ৫ হাজার কিলোমিটার এলাকা ভ্রমণ করবে।

বিজ্ঞাপন

ভাসমান পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান পারমানবিক সংস্থা রোসাতম জানায় জাহাজটি বৈদ্যুতিক শক্তির এক বড় উৎস হতে যাচ্ছে যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। সেন্ট পিটার্সবার্গ শিপইয়ার্ডে তৈরি ১৪৪ মিটার দৈর্ঘ্য জাহাজটির নির্মাণ ২০০৬ সালে শুরু হয়েছিল।

এদিকে পরিবেশবাদীদের সংগঠন গ্রীনপিস শুরু থেকেই এই প্রকল্পকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে এর বিরোধিতা করছে।  তারা এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে নিউক্লিয়ার টাইটানিক এবং বরফের মধ্যে চেরোনোবিল।

গ্রীনপিস বলছে টাইটানিকের মতই দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জাহাজটির। কেননা জাহাজটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ভ্রমণ করবে। সেসব এলাকা বিরাট বিরাট বরফখন্ডের রাজ্য।  তাই এই জাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।  গ্রীনপিস বলছে, 'দুর্গম, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ভ্রমণ করবে এই জাহাজ। আর ভাবুন একটি দুঃস্বপ্নের রাত। যেখানে প্রবল সামুদ্রিক ঝড় হচ্ছে। আর তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ডুবে গেছে। কী ক্ষতিটাই না হবে পরিবেশের।'

বিজ্ঞাপন

গ্রীনপিসের রাশিয়া শাখার জ্বালানী বিভাগের প্রধান রাশিদ আলিমভ বলেন, 'যেকোনো পারমানবিক শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র উচ্চ বিকিরণযুক্ত বর্জ্য তৈরি করে যা থেকে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর্কটিকে এ জাহাজের যেকোনো দুর্ঘটনা হবে মারাত্মক, কেননা এসব দুর্গম এলাকায় পারমানবিক বর্জ্য পরিষ্কারের কোনো উপায় নেই।'

ছবি: বার্তা সংস্থা এএফপি দেখিয়েছে জাহাজটির সম্ভাব্য গতিপথ

ভাসমান পারমানবিক এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া এক দশক ধরে কাজ করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বহণ করা জাহাজে দুইটি রিয়েক্টর থাকছে। তবে জাহাজটি সুনামি প্রুফ, এবং আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে নিরাপদ বলে দাবি করেছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এর জ্বালানি লক্ষাধিক নাগরিকের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে তারা দাবি করেছে।

৬৯ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে জাহজটি। সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার নট বা সাড়ে ছয় থেকে আট কিলোমিটার বেগে চলবে প্রতি ঘন্টায় জাহজটি। পারমানবিক শিল্পের বাজার বৃদ্ধিতে এই প্রকল্পকে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন