সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ভোট চাইতে ৬৪ জেলায় ছাত্রদলের প্রার্থীরা

আগস্ট ২৩, ২০১৯ | ৮:২০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এম আরজ আলী শান্ত। ছাত্রদলের সাবেক প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার সঙ্গে যখন মুঠোফোনে কথা হয়, তখন তিনি রাজশাহীতে।

বিজ্ঞাপন

তার এই সফরের উদ্দেশ্য হলো- রাজশাহী জেলা, মহানগর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলসহ সংগঠনটির কেন্দ্র স্বীকৃত ইউনিটগুলোর কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাওয়া।কারণ, সারাদেশে ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলরের ভোটে এবার ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে। ছাত্রদলের ৪০ বছরের ইতিহাসে যে ঘটনা এর আগে মাত্র পাঁচবার ঘটেছে!

সুতরাং কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণে এম আরজ আলী শান্ত ছুটছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। এরইমধ্যে ৪৪টি জেলা সফর করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ছাত্রদলের জেলা ইউনিটগুলোর সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককের কাছে ভোট চান।

আরজ আলী শান্ত সারাবাংলাকে বলেন, ‘যাদের ভোটে আমাকে জিততে হবে, তাদের সঙ্গে একবারের জন্য হলেও দেখা করা উচিত। এরইমধ্যে ৪৪টি জেলা সফর করেছি। বাকি জেলাগুলো ভোটের আগেই সফর করব।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানজিল হাসান ছিলেন চাপাইনবাবগঞ্জ। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় প্রচারণা চালাতে তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে বেরিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীও চান ভোটের আগেই গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সফর শেষ করতে।

বিজ্ঞাপন

তানজিল হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরব। এরপর যাব চট্টগ্রাম বিভাগে। চেষ্টা করব গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে প্রচারণা চালাতে। দেখা যাক কতদূর পারি।’

এছাড়া বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সিলেটের হবিগঞ্জ ভোট চেয়েছেন সভাপতি প্রার্থী মামুন খান এবং ময়মনসিংহে প্রচারণা চালিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহ নেওয়াজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া ২৭ জন সভাপতি প্রার্থী ও ৪৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীরা ৬৪ জেলা চষে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ মনোনয়ন ফরম বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন। তালিকা প্রকাশের পরই তারাও বেরিয়ে পড়বেন।

আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তানভীর রেজা রুবেল সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা সফরে বের হব। উত্তরবঙ্গ দিয়ে শুরু হবে আমরা জেলা সফর।’

আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আজিম উদ্দিন মেরাজ, মো. ইলিয়াস, হাফিজুর রহমান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাজিদ হাসান বাবু, আল মেহেদি তালুকদার, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, এবিএম মাহমুদ আলম, মো. আসাদুল আলম টিটু, এম আরজ আলী শান্ত, মো. সুরুজ মন্ডল, মো. আবদুল মাজেদ, মাইনুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, মুহাম্মদ ফজলুল হক নিরব, আরাফাত বিল্লাহ খান, এসএম আল আমিন, মো. জুয়েল মৃধা, আবদুল হান্নান, মো. শামীম হোসেন, মো. মামুন খান, এসএএম আমিরুল ইসলাম, সুলায়মান হোসাইন ও আল আমিন কাউছার ফরম জমা দিয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ফরম জমা দিয়েছেন- রিয়াজ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, মো. ওমর ফারুক শাকিল চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, সাইফ মাহমুদ জুয়েল হাওলাদার, আবদুল মান্নান, নাদিয়া পাঠান পাপন, এবিএম বাকির জুয়েল, মিজানুর রহমান শরীফ, মো. ওমর ফারুক, মো. হাসান (তানজিল হাসান), মো. আলাউদ্দিন খান, রাশেদ ইকবাল খান, আমিনুর রহমান, ইকবাল হাসান শ্যামল, ইমদাদুল হক মজুমদার, মো. নাইম হাসান, কেএম সাখাওয়াত হোসেন, শাহনেওয়াজ, এএএম ইয়াহইয়া, ডালিয়া রহমান, সোহেল রানা, মোহাম্মদ কারীমুল হাই নাঈম, মো. মহিনউদ্দীন রাজু, আরিফুল হক, মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আসাদুজ্জামান রিংকু, মো. আবুল বাশার, মো. মিজানুর রহমান সজীব, মো. জুলহাস উদ্দিন, মো. মিজানুর রহমান, মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির, সাদিকুর রহমান সাদিক, আবদুল মোমেন মিয়া, কাজী মাজাহারুল ইসলাম, আজিজুল হক সোহেল, শেখ মো. মশিউর, মো. জামিল হোসেন, শেখ আবু তাহের, মো. তবিবুর রহমান সাগর, মাজেদুল ইসলাম, মাহমুদুল আলম শাহিন, মো. জোবায়ের আল মাহমুদ রিজভী, নাজমুল হক হাবীব, মো. জহিরুল ইসলাম (দিপু পাটোয়ারি), আনিসুর রহমান সুমন, এমএম বাবুল আক্তার শান্ত ও মুন্সি আনিসুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এদের মধ্যে সভাপতি পদে অন্তত পাঁচজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত আটজন হাইপ্রোফাইল প্রার্থী রয়েছেন। এরা প্রত্যেকেই ৬৪ জেলা সফরে বেরিয়েছেন। কাউন্সিলরদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে ভোট চাইছেন।

গত ৩ জুন বিএনপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়। পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্প্দাক নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বয়স সীমার বাধ্যবাদকতা থাকায় ভেঙে দেওয়া কমিটির এক অংশের প্রতিবাদের কারণে কাউন্সিল পেছাতে বাধ্য হয় বিএনপি।

কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় ১৯৯২ সালে। যে কমিটির সভাপতি ছিলেন বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলী।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন