সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সেনাসমর্থিত সরকারের ব্যর্থতা ও ভুল সিদ্ধান্তেই ২৩ আগস্টের ঘটনা’

আগস্ট ২৩, ২০১৯ | ১০:২৭ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপনডেন্ট

ঢাবি: সেনাসমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যর্থতা ও ভুল সিন্ধান্তের কারণেই ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ২০০৭ সালের ওই দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘২০০৭ সালে যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল সেটি গণতান্ত্রিক সরকার নয়। এবং তাদের ব্যর্থতা ও ভুল সিন্ধান্তের কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ আগস্ট অমানবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় সরকারের যদি ভালো দৃষ্টিভঙ্গি থাকত তাহলে অনভিপ্রেত ওই ঘটনা ঘটত না।'

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘সেসময় নির্যাতিত শিক্ষার্থীরা যে দাবি তুলেছিল তা ন্যায়সঙ্গত ছিল। তখনকার সরকার ও প্রশাসন যদি সেই দাবি সঠিকভাবে অনুধাবন করত এবং সমাধানের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিত তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ কালো দিবস পালিত হত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সবসময় যেকোনো অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে থাকেন। এবং এসব ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ।’

বিজ্ঞাপন

এসময় ২০০৭ সালে ২৩ আগস্টের ঘটনায় নির্যাতিত ও নিপীড়িত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন উপাচার্য। ভবিষ্যতে এই ধরনের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রত্যককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিটি ঘটনার যথাযথ মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, ঢাবি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের পক্ষে অধ্যাপক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ্, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি মো. নুরুল হক, নির্যাতিত ছাত্র জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সরোয়ার মোর্শেদ, কারিগরি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন এবং ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া বক্তব্য দেন।

এদিকে ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে সকালে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদালয়ের সচেতন ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ একটি মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ এবং অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কালো দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২০-২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত অমানবিক, বেদনার্ত ও নিন্দনীয় ঘটনা স্মরণে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন