বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহায় সড়ক দুর্ঘটনা ১৩৫, নিহত ১৮৫

আগস্ট ২৪, ২০১৯ | ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে সারাদেশে সংগঠিত ১৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩৫৫ জন। ১০ থেকে ১৮ আগস্ট এই নয়দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঈদুল আজহায় সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনার পর্যবেক্ষণ জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আলম দীপেন-এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ ও বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান খান, নিসচার যুগ্ম-মহাসচিব বেলায়েত হোসেন খান নান্টু সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যায়, এ বছর ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় সড়ক দুর্ঘটনা কিছুটা বেশি। ঈদুল ফিতরে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১২৭। ওই সময় নিহত হন ১৮৪ জন এবং আহত হন ৩৩২জন। বিভিন্ন পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে নিসচার সারাদেশের ১২০টি শাখা সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমেও সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ বছরের ঈদুল ফিতরে সড়কপথে ঈদযাত্রা ছিল যতটা স্বস্তিদায়ক ছিল ঈদুল আযহায় এসে সেই ঈদযাত্রা ভোগান্তিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে মানুষদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে নৌপথে দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঈদযাত্রা ছিল অনেকটা স্বস্তিদায়ক। নৌপথে বেশকিছু নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছে। তবে এবারও ঈদের আগের দিন সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রেলপথে এবারও বেশকয়েকটি নতুন ট্রেন সংযুক্ত হলেও সিডিউল বিপর্যয় ও টিকিট কালোবাজারির কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে। অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে এবারও প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রেলের যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এ বছর ঈদুল আজহার সময় সারাদেশে সড়ক পথে গাড়ি চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ঈদে উত্তরবঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে তিনটি সেতু (কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী) খুলে দেওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যানজট হয়নি বললেই চলে এবং সড়ক দুর্ঘটনা এসকল অঞ্চলে তুলনামুলকভাবে কম হয়েছে। তবে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি, বরং বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে বেড়েছে বাস দুর্ঘটনার সংখ্যা। এবার ৪০টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছে ২৯ জন (চালক ও আরোহী)। ঈদুল ফিতরে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪৫ এবং নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৮। দুর্ঘটনায় হতাহতদের বেশির ভাগই তরুণ। আর তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাবই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে দেখছে নিসচা।

এছাড়া ঈদের সময় সিডিউল রক্ষা করতে গিয়ে বাসগুলো দ্রুতগতিতে বেপরোয়াভাবে চালানোর কারণে এবার বাস দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে সবধরনের যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা, নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি নিসচার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের এসব অনিয়ম বন্ধে তৎপরতাও চোখে পড়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে, উবার এবং পাঠাও-এর মত ইন্টারনেটভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের বাহনগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে অ্যাপের কলিংয়ে সাড়া না দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী বহনের প্রবণতা তাদের মাঝে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ সড়ক চাই-এর পক্ষ থেকে জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন, সাবধান ও সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয়ে।

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন