শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নারী নিপীড়ন ধামাচাপার অভিযোগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে

আগস্ট ২৪, ২০১৯ | ৯:০৯ অপরাহ্ণ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নারী নিপীড়নের ঘটনায় প্রকৃত তদন্তের ব্যবস্থা না করে উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, নারী নিপীড়ন সংক্রান্ত দু’টি অভিযোগের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এ সংক্রান্ত সকল তথ্য-প্রমাণ সারাবাংলা’র কাছে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মহাপরিচালককে (গবেষণা) প্রধান করে গত ২৩ এপ্রিল ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটি’ গঠন করা হয়। এরপর গত ২৭ জুন মহাপরিচালক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্বাক্ষর করা অফিস আদেশে ২৩ এপ্রিলের গঠন করা কমিটি বাতিল করে আরেক মহাপরিচালকে (আমেরিকাস) নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

নারী নিপীড়ন সংক্রান্ত দু’টি অভিযোগের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই আগের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটি’ গঠন করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (গবেষণা) নওরীন আহসান স্বাক্ষর করা এক অফিস আদেশে এই কমিটি সম্পর্কে বলা হয়, ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ বাস্তবায়নে জাতীয় পরিকল্পনা ২০১৩-তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্ন্তভূক্তির জন্য গৃহীত উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সুপ্রিম কোর্ট গাইডলানের (সেক্সচুয়াল হেরেজমেন্ট এট এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন এন্ড ওয়ার্কপ্লেস: ইমপ্লিমেনটেশন স্ট্যাটাস অব দ্য ২০০৯ সুপ্রিম কোর্ট গাইডলাইন)’ আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ্যতম নারী মহাপরিচালককে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট অভিযোগ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটি’ হিসেবে অভিহিত হবে।’

এরপর গত ৭ মে আরেকটি অফিস আদেশে ২৩ এপ্রিল গঠন করা ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে থেকে ৩ জন সদস্য অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনুজ হুদা, বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবার (৯৯৯) প্রধান কবারক উল্লাহ এবং হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ফারজানা রাবিন।

‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন হয়রানির’ অভিযোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠন করা ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটিতে দু’টি অভিযোগ জমা পরে। এর পরপরই গত ১০ জুন মহাপরিচালক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠন করা ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটি’ সংক্রান্ত কমিটির কার্যপরিধি জারি করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনের জারি করা কার্যপরিধিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে গত ১১ জুন ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটি’ জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ‘কমিটির কার্যপরিধি নিয়ে জারি করা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিটি আইনগতভাবে ক্ষমতা বর্হিভূত এবং উচ্চ আদালত প্রণীত সুনির্দিষ্ট নির্দেশমালার পরিপন্থী।

বিজ্ঞপ্তিটির ১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে তদন্ত পরিচালনা করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দেবে’, এই ধরনের নির্দেশনা হাইকোর্টের নির্দেশনায় নেই। কার্যবিবরণী থেকে আরও জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ‘প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে অধিকতর তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে’, বিষয়টি হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী। বিজ্ঞপ্তিতে শুধু মাত্র নারী নিপীড়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও তদন্ত করবে, যা নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রযোজ্য।

বিজ্ঞপ্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চলমান বিভাগীয় মামলা কিংবা তদান্তাধীন বিষয় এই কমিটির এখতিয়ারভুক্ত হবে না’, বিষয়টিও হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী। বিজ্ঞপ্তির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদটি অসম্পূর্ণ। এছাড়া কার্যবিবরণীতে বিজ্ঞপ্তির ৮, ১০, ১১, ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদকে হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তির আরও একাধিক অসংগতি উল্লেখ করে প্রশাসনের জারি করা এই কমিটির কার্যপরিধি প্রত্যাহারের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপর গত ২৭ জুন মহাপরিচালক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্বাক্ষর করা আরেকটি অফিস আদেশে ২৩ এপ্রিল গঠন করা ‘নারী নিপীড়ন এবং যৌন নির্যাতনবিরোধী অভিযোগ কমিটি’ বাতিল করা হয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আমেরিকাস) ফেরদৌসী শাহরিয়ারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে প্রকৃত নারী নিপীড়কদের বাঁচাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন কাজ করছে। কার্যপরিধি জারির মাধ্যমে প্রথমবার ২৩ এপ্রিলের গঠন করা কমিটিতে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওই কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনের কথামতো কাজ না করায় তা বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।


এই বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নতুন কমিটির প্রধান মহাপরিচালক (আমেরিকাস) ফেরদৌসী শাহরিয়ার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগের কমিটি কেন বাতিল করা হয়েছে, সেটা আমি জানি না।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআইএল/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন