বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আমার চিঠি বৈধ, সরকার অবৈধ: রুমিন ফারহানা

আগস্ট ২৫, ২০১৯ | ৬:৩২ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্লট চেয়ে গৃহায়নমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে ফের আলোচনায় আসা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলছেন, ‘আমার চিঠি বৈধ, কিন্তু এই সরকার অবৈধ।’

বিজ্ঞাপন

রুমিন ফারাহানার চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর রোববার (২৫ আগস্ট) বিকেলে মোবাইল ফোনে সারাবাংলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এর আগে গত ৩ আগস্ট সংসদ সদস্যের প্যাডে ১০ কাঠার একটি প্লটের জন্য আবেদন করেন রুমিন।

আরও পড়ুন- সরকারের কাছে ১০ কাঠার প্লট চান বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানা

সারাবাংলাকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যে চিঠিটি ভাইরাল হয়েছে সেটা অবৈধ নয়, অনৈতিকও নয়। কারণ, একজন সংসদ সদস্য প্লটের জন্য আবেদন করতে পারেন, একটি ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আনতে পারেন, বেতন-ভাতা পান এবং পাঁচ বছরের জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট পান। এই চারটি জিনিস তার রাষ্ট্রীয় অধিকার। যিনিই সংসদ সদস্য হবেন, তিনিই এই চারটি সুযোগ পাবেন। সে সুবাদে অন্য সংসদ সদস্যদের মতো আমিও আবেদন করেছি। আমি একা নই, প্রায় সব সংসদ সদস্যই করেছেন।’

‘এখন আমরা প্রশ্ন হলো, প্রায় সাড়ে তিনশ সংসদ সদস্য আবেদনপত্র জমা দিলেন, আর ভাইরাল হলো কেবল আমার চিঠি? চিঠিটি মন্ত্রণালয়ের থেকে বের হলো কীভাবে?’— প্রশ্ন রাখেন রুমিন ফারাহানা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই সরকার আমাদের ফোনে আঁড়ি পাতে, ফেসবুক হ্যাকড করে, এই সরকার আমাদের গোপন নথি ইচ্ছা করে প্রকাশ করে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে, সরকারের কাজের সমালোচনা করলে, সরকারকে তোষামদ না করলে, তিনি সংসদ সদস্য হোন বা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হোন অথবা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হোন, যেভাবেই হোক এই সরকার তাকে হেনস্তা করবে।’

রুমিন ফারাহানার প্রশ্ন— ‘চিঠিটা কি অবৈধ? কোন আইনে অবৈধ? এটা কি অনৈতিক? কোন আইনে অনৈতিক?। এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি। আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিচ্ছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই আবেদনটিও তেমনি রাষ্ট্রীয়। আমার এই রাষ্ট্রীয় নথি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলো কীভাবে?’

তিনি বলেন, ‘আমি এই সরকারের কাছ থেকে এক ইঞ্চি জমিও আশা করি না। এটা একটা প্রসিডিউর, একটা ফরমালিটিজ— যেটা সব সংসদ সদস্য করেছেন, আমিও করেছি। অবশ্য, এই চিঠি আমি নিজে ড্রাফট করিনি। আমার পিএস ড্রাফট করে জমা দিয়েছে।’

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের শুল্কমুক্ত গাড়ি আনার বিষয়টি আড়াল করতেই ওই চিঠি ভাইরাল করা হয়েছে— এমন অভিযোগ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কোনো পদে না থেকেও দুই দিন আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী শুল্কমুক্ত গাড়ি এনেছেন। সরকার তার সেই নোংরামি চাপা দেওয়ার জন্য বৈধ চিঠি পাবলিক করেছে। সরকারের মদদ না থাকলে একটা সরকারি নথি পাবলিক হয় না।’

‘আগেও বলেছি, এখনও বলছি— এই সরকার অবৈধ, সম্পূর্ণ অবৈধ। জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত সরকার। সব বিচারেই এই সরকার অবৈধ। আমি সরকারের কাছে কোনোকিছু চাইনি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি রাষ্ট্রীয় সুযোগ চেয়েছি। সুতরাং আমরা চিঠি বৈধ, সরকার অবৈধ,’— বলেন রুমিন।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন