সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘৩০ বছর টাউট-বাটপারের দলেরা ক্ষমতায় ছিল’

আগস্ট ২৫, ২০১৯ | ১১:০৫ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৯ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা টাউট-বাটপারদের দলের কাছে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আইন সমিতি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যে অবদান, আমরা এখনো বাঙালি জাতির সামনে তুলে ধরতে পারিনি। আজকে ৪৯ বছর ধরে আমরা ডিফেনসিভ হচ্ছি, অফেনসিভ হতে পারছি না। শুধু আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হচ্ছে।’

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘৪৯ বছর চলে গেল। এই ৪৯ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায়, আমাদের নেত্রী, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আছেন সাড়ে ১৫ বছর। এই ১৯ বছর আমাদের ক্ষমতা। আর ৩০ বছর ছিল জিয়া-এরশাদ-খালেদ, মার্শাল, টাউট বাটপারের দলেরা।’ এই ৩০ বছরে তারা দেশকে শুধু পেছনের দিকে নিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ খুনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ খুনি, এটা যারা আত্মস্বীকৃত খুনি তারাই বলে গিয়েছে। এছাড়াও জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিল। কাদের মন্ত্রী বানিয়েছিল? যাদের প্রত্যেকে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল। সব ক্রিমিনালদের সে মন্ত্রী করে দিলো। একজনও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছিল না এবং সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা উঠিয়ে দিল। ধর্ম নিরপেক্ষতা উঠিয়ে দিয়ে গোলাম আজমকে এনে, পাকিস্তানের নাগরিক গোলাম আজমকে এ দেশে এনে নাগরিকত্ব দিলো। তাকে আবার জামায়াতে ইসলামী দল গঠন করার সুযোগ করে দিলো। এতে কী বুঝা যায়? এ দেশকে মিনি পাকিস্তান বানানোর জন্য যা যা করণীয়, সব করল।’

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ জন (সেক্টর কমান্ডারের) মধ্যে একমাত্র জিয়াউর রহমানই বলেছিল, ‘আমি মুজিব নগর সরকারের, অর্থাৎ রাজনৈতিক সরকারের অধীনে যুদ্ধ করব না।’ সে বলল, ‘আমরা ওয়ার্ড কাউন্সিল করে যুদ্ধ করব।’ এই সেই ক্রিমিনাল।

বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বমানের নেতা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব কি শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল নাকি বিশ্বমানের ছিল? যেদিন আমাদের তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হতো, আমাদের অবস্থাও তা-ই ছিল। সেইদিনই তিনি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সারাবিশ্বের নীতি কী হবে, কীভাবে চলবে সেই ব্যাপারে দিক নির্দেশনামূলক কথা বলেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। যে গতিতে তিনি চলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই সেটা সম্ভব।

বাংলাদেশ আইন সমিতির জাতীয় শোক দিবস অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিষয়ক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হক ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

বাংলাদেশ আইন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান আল-মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান আনসারী, বাংলাদেশ আইন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এস এম মুনিরসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

সারাবাংলা/কেকে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন