বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ২ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

তালিকায় থাকা সব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তথ্য জানত না

আগস্ট ২৮, ২০১৯ | ৮:৩১ অপরাহ্ণ

এমএকে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দ্বিতীয়বারের মতো গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ওই দিন থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যাবাসনের জন্য ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার নাম তালিকাভুক্তও করা হয়। অথচ তালিকায় নাম থাকা সব রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের তথ্য জানান হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার (২৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে একাধিক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্রগুলো জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের বুধবারের বৈঠকটির মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট। মূলত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কেন ব্যর্থ হলো এবং আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে কীভাবে এগুতে হবে, টাস্কফোর্সের বৈঠকে এটাই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়।

বৈঠক শেষে এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ঢাকার সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং অন্য সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় ছিল না বলে বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে। ভয়ংকর তথ্য হলো— যেসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার কথা ছিল তাদের সবাই এই বিষয়টি জানতই না। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, এই সংকট কাটাতে হলে যে ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন, ঢাকা সেই পরিমাণ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ঢাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, শিবিরগুলোতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে প্রচারণা থামানো যায়নি। সামনের দিনগুলোতে যেন এমন পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়, সেজন্য বৈঠকে শিবিরগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবারের জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করে ফেইল করেছি। প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আমরা আবার শুরু করতে চাই। প্রত্যাবাসন কেন ব্যর্থ হলো, আজকের বৈঠকে তার অ্যানালাইসিস করেছি। সামনে এই বিষয়ে কীভাবে এগুতে হবে, সেই বিষয়ে সুপারিশমালা তৈরি করেছি।’

বৈঠকে কী কী সুপারিশ করা হয়েছে— জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ইস্যুতে আমাদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে মোটিভেশনাল কাজটা আরও বেশি করে করতে হবে। রোহিঙ্গারা আমাদের কাছে যে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, আমরা এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের বোঝাব— এটা আমাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না, এসব দাবি মিয়ানমারের সরকারের কাছে পেশ করতে হবে।’

প্রত্যাবাসন কেন ব্যর্থ হলো, সে বিষয়ে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে— জানতে চাইলে ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে তাড়াহুড়া হয়েছে, সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অভাব ছিল। প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব রোহিঙ্গার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল, তাদের সবাইকে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জানানো হয়নি। এই গ্যাপগুলো অ্যানালাইসিস করে গ্যাপগুলো পূরণের জন্য আজকের বৈঠকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোকে এ বিষয়ে আরও সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে, ভারত, চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো যেন আরও শক্তভাবে আমাদের পক্ষে অবস্থান নেয়, এজন্য আমরা চেষ্টা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ নেবে।’

আরও পড়ুন-

ঘুমধুম ট্রানজিট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত বাংলাদেশ

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি, এখনো আশায় বুক বেঁধে আছি’

‘উই আর রোহিঙ্গা, নট বাঙালি’ স্লোগানে মুখর কুতুপালং ক্যাম্প

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন