শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ফাইভ-জির নীতিমালা জানুয়ারিতে, তরঙ্গ বরাদ্দের পরিকল্পনা

সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ | ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে পঞ্চম প্রজন্মের মুঠোফোন সেবা ফাইভ-জি চালুর লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। এটি চালু হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফাইভ-জির তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাইভ-জির একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন তৈরি করা হবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারিতেই তা শেষ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভ-জি সেবা দিতে পরিকল্পনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের লক্ষ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা এবং পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার-২০১৮-এর লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় ‘২০২১-২৩ সালের মধ্যে ফাইভ-জি চালু করা হবে’ মর্মে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। নির্বাচনি ইশতেহারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ধারাবাহিকতায় সরকার শিগগিরই ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির লাইসেন্স দেওয়া করা হয়েছে। প্রতিটি দেশেই অপারেটরকে ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে প্রায় ১০০ মেগাহার্টজ এবং মিলিমিটার ওয়েভের জন্য ২৬-২৮ গিগাহার্টজ বা তদূর্ধ্ব ব্যান্ডে ৮০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু দেশ ২.৫ গিগাহার্জ (২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্জ) ব্যান্ডে ফাইভ-জির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ফাইভ-জি প্রযুক্তির জন্য শুধুমাত্র তরঙ্গের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা আবশ্যক। উন্নত দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় তারা এই প্রযুক্তি চালু করার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সমসাময়িক সময়ে ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনে কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্বল্প খরচে মোবাইল কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের অন্যতম শর্ত হলো একই তরঙ্গ ব্যাপক ভিত্তিতে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা। আইটিইউ বিশ্বব্যাপী এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফাইভ-জির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া মিলিমিটার ওয়েভের জন্য প্রস্তাবিত ব্যান্ডগুলো বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরঙ্গ আছে।

বিটিআরসি জানায়, সরকারের ফাইভ-জি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফাইভ-জি সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতিনিধি, বিটিআরসির প্রতিনিধি, অপারেটরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন থেকে গত ৪ আগস্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের রূপরেখা, সম্ভাব্য তরঙ্গ, সম্ভাব্য তরঙ্গমূল্য এবং বাস্তবায়ন সময়কাল প্রণয়ন করবে। সেইসঙ্গে ফাইভ-জির একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। আশা করা যায়, ওই কমিটি আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ ফাইভ-জি সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

পঞ্চম প্রজন্মের মুঠোফোন সেবায় ইন্টারনেটের গতি হবে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি।

তবে বিশ্বব্যপী ফাইভ-জির গতির মান (স্ট্যান্ডার্ড) এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালু হলে ড্রোনের মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও অগ্নি নির্বাপনে সহায়তা পাওয়া যাবে। চালকবিহীন গাড়ি, লাইভ ম্যাপ ও ট্রাফিক তথ্য পড়ার ক্ষেত্রে ফাইভ-জি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এমআই

বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন