বিজ্ঞাপন

নারী-শিশু নির্যাতন: খাগড়াছড়িতে ২ শতাধিক ঘটনায় মামলা মাত্র ৫৮টি

September 4, 2019 | 8:01 am

জসিম মজুমদার, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

খাগড়াছড়ি: পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে গত ১৯ জুলাই ভাড়া বাড়িতে শ্বাসরোধ করে গৃহবধূ রোজিনা বেগমকে হত্যা করে স্বামী মনির হোসেন। এর আগে ১৪ মে জেলা সদরের বড়পাড়া গ্রামে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ধনিতা ত্রিপুরা নামের আরেক কিশোরীকে। এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটছে খাগড়াছড়িতে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রায় দুই শতাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে এগুলোর মধ্যে মামলা হয়েছে মাত্র ৫৮টি; যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

বিজ্ঞাপন

নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছরের প্রথম ৮ মাসে জেলার ৯ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৪১টি মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে দায়ের করা হয়েছে আরও ১৭টি মামলা। মামলাগুলোর মধ্যে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ২৬টি, যৌতুকের জন্য নির্যাতন সংক্রান্ত মামলা ১৭টি, ধষর্ণ ও নির্যাতনের পর হত্যা ২টি এবং অন্যান্য ১৩টি।

তবে বেসরকারি সংস্থা খাগড়াপুর মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২০৪টি। নৈতিক অবক্ষয়, সুশিক্ষার অভাব, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এবং বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। কিছু ঘটনায় মামলা হলেও আইনের ফাঁকফোকর এবং রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে দোষীরা। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বাড়লেও অধিকাংশ ঘটনায় দোষীদের আইনানুগ শাস্তি না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সামাজিক মূল্যবোধ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে। ’তিনি জানান, তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে মেয়ে জামাই। বর্তমানে সে জেলে আছে। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীসহ সকল নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি জেলার সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মমিন জানান, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বিচারহীনতার কথা বলা অযৌক্তিক। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার বিষয়টি সময় মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে জানায় না। আর এ জন্য মামলার মেরিট ও আলামত নষ্ট হয়ে যায়, এজাহার দুর্বল হয়, সাক্ষীরা যথাযথভাবে সাক্ষ্য দেয় না। আইনের প্রয়োগ এবং বিচার তখনই সম্ভব যখন বাদী মামলা প্রমাণে সক্ষম হয়। তিনি নির্যাতনকারীদের বিরূদ্ধে সময় মতো আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়ির জেলা পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি নারী এবং শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। কিন্তু এসব ঘটনায় ৯ থানায় মাত্র ৪১টি মামলা রেকর্ড হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো থানা পর্যন্ত আসে না। স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে সমাধান বা আপস হয়ে যায়। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাগুলো আপস অযোগ্য। ক্ষতিগ্রস্থরা যেন এমন ঘটনায় কারও প্রভাবে সমঝোতা না করে। ’

নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সহিংসতা হলে আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। বিচারের জন্য প্রভাবশালী লোকজনের কাছে ঘুরে মামলার আলামত নষ্ট করে থানায় বা আদালতে আসলে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে না। ’নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে গঠিত হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে খাগড়াছড়ির এই ট্রাইব্যুনালে ৩৬৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন