বিজ্ঞাপন

টুজি-থ্রিজি লাইসেন্স বাতিলে জিপি ও রবিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

September 5, 2019 | 5:48 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাওনা আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি’র টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না— সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এই দুই অপারেটরকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান সারাবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন- গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ আগামী সপ্তাহে!

বিজ্ঞাপন

জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১-এর ৪৬(২) ধারা অনুযায়ী মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক সারাবাংলাকে বলেন, চিঠিতে শুধু টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়েছে। ফোরজি লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হয়নি। কারণ ফোরজি’র এখনো অডিটই হয়নি। আর এসব পদক্ষেপ অডিট অপত্তির ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিটিআরসি’র চিঠির বিষয়ে এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়েছে গ্রামীণফোন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিটিআরসি’র নোটিশটি অযৌক্তিক এবং একইসঙ্গে একটি বিতর্কিত অডিট দাবির বিষয়ে আমাদের গঠনমূলক সমাধান প্রস্তাবের বিপরীতে তাদের অনীহার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। নোটিশটি পর্যালোচনা করার পরেই গ্রামীণফোন উত্তর দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান, শেয়ার হোল্ডার ও সম্মানিত গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যায্য যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অন্যদিকে, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। গ্রাহকদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। যথাসময়ে আমরা কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেবো।

বিজ্ঞাপন

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবি’র কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিটিআরসির নিজস্ব পাওনা।

এর আগে, বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি আজিয়াটার (রবি) ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ আর রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ কমানোর জন্য আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠায় সংস্থাটি। গত ৪ জুলাই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এটি ছিল বকেয়া আদায়ের প্রথম ধাপ। এ নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার অভিযোগ আসে বিভিন্ন মহল থেকে। গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও গ্রাহক ভোগান্তি ও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে গত ১৬ জুলাই সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অপারেটর দু’টির ব্যান্ডউইথ কমিয়ে রাখার ঘোষণা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকের এক দিন পর ১৭ জুলাই বিটিআরসি সংবাদ সম্মেলন করে ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দু’টিকে কোনও এনওসি দেওয়া হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এনওসি অর্থাৎ নতুন কোনো গ্রাহক সেবা প্রদান বন্ধের ঘোষণা ছিল দ্বিতীয় ধাপ। বকেয়া আদায়ের তৃতীয় ধাপ হিসেবে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দেওয়ায় অপারেটর দুটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা। বহির্বিশ্ব ও দেশের পুঁজিবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছিলেন তারা। লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ ইস্যু হতে পারে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পুঁজিবাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে দেখা গেছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন