সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তিখাতে নারীর দক্ষতা বিকাশে কোডারসট্রাস্টের নতুন প্রকল্প

সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ | ১১:২৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি নারীদের দক্ষতা বিকাশ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে দিতে বিশ্ব বিখ্যাত আইটি প্রতিষ্ঠান কোডারসট্রাস্ট নতুন একটি প্রকল্পের সূচনা করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারীকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে বিনামূল্যে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সিং এখন একটি বিশাল জগৎ। অর্থনীতির ভাষায় এটিকে ট্রিলিয়ন ডলার মার্কেট বলা হয়। আমাদের নারীরা যদি এর সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের যেমন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসবে, তেমনিভাবে বাংলাদেশও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভবান হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে ১ লাখ ৭০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের সবার কর্মসংস্থান করা সরকারের পক্ষে হয়ত সম্ভব হবে না। তবে সরকার তাদের জন্য সারাবিশ্বকে উন্মুক্ত করে দেবে। আউটসোর্সিংয়ের যে ট্রিলিয়ন ডলার মার্কেট রয়েছে সেটিকে ধরতে হবে। এর ন্যূনতম অংশও যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে দেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না। কাউকে বেকার থাকতে হবে না।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী পলক জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে ২০ লক্ষ তরুণ-তরুণীর জন্য প্রযুক্তিখাতে কাজের পরিবেশ তৈরি করতে চায় তার মন্ত্রণালয়। এদেরকে মাধ্যম করে ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পৃথিবী সহযোগিতার জন্য প্রতিযোগিতার জন্য নয়। আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে সহযোগিতা করব যেন তারা এ বাজার ধরতে নেতৃত্ব দিতে পারে।’

‘ফ্রিল্যান্সিং জগতে নারীদের দক্ষতা বিকাশ’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোডারসট্রাস্ট এর কোফাউন্ডার, কোডারসট্রাস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আজিজ আহমদ, বাংলাদেশি নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি পিটারসেন, বাংলাদেশ সরকারের মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, সাবেক মুখ্যসচিব আব্দুল করিম, সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন এবং জাতীয় সংসদের সদস্য শিরিন আক্তার।

আইসিডি প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কোডারসট্রাস্ট এর কোফাউন্ডার  আজিজ আহমদের প্রশংসা করে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তথা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আইসিটি খাতে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু নিজের দেশকে ভুলে যাননি। দেশে তিনি  কোডারসট্রাস্ট নিয়ে এসেছেন এবং আইসিটিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছেন।

আজিজ আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং সেই জনশক্তির কাজকে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়াই কোডারসট্রাস্ট এর লক্ষ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান বলেন, ‘কোডারসট্রাস্টে এসে আমি অনুপ্রাণিত বোধ করছি। এত মেয়ে দেশের জন্য একসঙ্গে সঙ্গে কাজ করছে সেটি সত্যিই অনেক সুন্দর। একা অসম্ভবকে সম্ভব করে প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। আমি তাদেরকে বলব, তোমরা স্বাধীনভাবে কাজ করো এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করো। তাহলেই আমাদের দেশের মঙ্গল হবে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যদি তোমরা আয় করতে পারো তাহলে তা হবে সত্যিকারের প্রশিক্ষণ। নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী তার জন্য হলেও তোমাদেরকে কাজ করতে হবে এবং সৃজনশীল হতে হবে।’

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি পিটারসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা সারাবিশ্বে নিজের দেশকে প্রশংসিত করছে। এদেশের সরকারও নারীর ক্ষমতায়নে অনেক তৎপর। নারীদেরকে বলব তোমরা সুযোগটা ধরো এবং কাজের মাধ্যমে সারাদুনিয়া জয় করো।’

ফারুক হোসেইন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার যুবকদের কর্মমুখী করার পক্ষে, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। ২০২১, ২০৪১ সালের ভিশন পূরণ করতে হলে তরুণদেরকে কর্মী থেকে উদ্যোক্তা হতে হবে। এ জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট জরুরি।’

সংসদ সদস্য শিরীন আহমেদ বলেন, ‘এখন মেয়েরা অনেক সামনে এগিয়ে গেছে। আমাদের সময় এত কিছু ছিল না। এখন তোমরা অনেক সুযোগ পাচ্ছ। যে যা শিখতে চাচ্ছে তাই শিখতে পারছে। এটা ভালো। এই ভালোটা দেশের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাতে করে মধ্য বয়সে গিয়ে তোমরা এই দেশকে পরিচালনা করতে পারো।’

উল্লেখ্য, কোডারসট্রাস্ট ডেনমার্কভিত্তিক বিখ্যাত একটি আইটি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের মধ্যে দুই লাখ মানুষকে আইটি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিকমানের ফ্রিল্যান্সার বানানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০৩০ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার একটি প্রকল্পও রয়েছে তাদের।

সারাবাংলা/টিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন