সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার মিলল অনলাইনে

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯ | ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অনলাইনের একটি সার্ভার থেকে সারা পৃথিবীর প্রায় ৪১৯ মিলিয়ন ফেসবুক ব্যহারকারীর গোপনীয় তথ্য ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবপোর্টাল টেকক্রাঞ্চ। এই তথ্যভাণ্ডারের অধিকাংশই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একাউন্টের সাথে সংযুক্ত ফোন নম্বর।

বিজ্ঞাপন

সানইয়াম জেইন নামের একজন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক সর্বপ্রথম এই সার্ভারটি সনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে তিনি টেকক্রাঞ্চকে জানানোর পর তারা তথ্যগুলো রিভিউ করে দেখে। এবং ঐ সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তথ্য ভাণ্ডারটি অফলাইনে সরিয়ে নেয়।

এই তথ্য ভাণ্ডারে ১৩৩ মিলিয়ন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, ১৮ মিলিয়ন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এবং ৫০ মিলিয়ন ভিয়েতনামভিত্তিক ফেসবুক একাউন্টের খুব গোপনীয় তথ্য রয়েছে বলে টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে।

তথ্যভাণ্ডারটি কোন পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত করা নেই। যার ফলে যে কেউ এখানে ঢুকে তথ্যগুলো খুঁজে পাবে এবং যে কোনভাবে ব্যবহার করতে পারবে। এখানে ব্যবহারকারীর ফেসবুক আইডির যে ইউনিক কোড নম্বর রয়েছে তার সাথে ঐ আইডির ফোন নম্বর জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ঐ ইউনিক কোডগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই ব্যবহারকারীর ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

টেকক্রাঞ্চের পক্ষ থেকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে যে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রদত্ত ফোন নম্বর তাদের যে একাউন্টের সাথে সংযুক্ত সেগুলো সার্ভার থেকে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।

তথ্য ভাণ্ডারে অনেক ব্যবহারকারীর নাম, জেণ্ডার, লোকেসন, দেশের নামের মত গোপন তথ্যগুলোও পাবলিক করা আছে।

এর আগে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য প্রকাশ করে তোপের মুখে পড়েছিল ফেসবুক। যা কেমব্রিজ এনালিটিকা স্ক্যান্ডাল নামে পরিচিত। তারপর এই সার্ভার থেকে ব্যবহারকারীদের গোপন তথ্য খুঁজে পাওয়ার ঘটনাই ফেসবুকের সর্বশেষ তথ্য নিরাপত্তাহীনতার নিদর্শন। যদিও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তথ্য নিরাপত্তাহীনতার ৭টি বড় ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তথ্য কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের মালিকানাধীন আরেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামের বিরুদ্ধেও।

সর্বশেষ অনলাইনে খুঁজে পাওয়া এই তথ্যভাণ্ডার থেকে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যে কেউ স্প্যাম কল বা সিম সোয়াপের মতো ঘটনা ঘটাতে পারবে। এছাড়াও যে কোন আক্রমণকারী এই নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট আইডির পাসওয়ার্ড রিসেট করতে পারবে।

ফেসবুকের মুখপাত্র জ্যায় নানক্যারো বলেছেন, ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১ বছর হলো। এই তথ্য ভাণ্ডার নিশ্চয়ই ফেসবুকের এই পলিসি পরিবর্তনের আগেই তৈরি করা হয়েছিল। পরে ফেসবুক জানায় ঐ তথ্যভাণ্ডারে ২২০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর তথ্য সন্নিবেশিত আছে।

কিন্তু এরপরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে ফেসবুকের এতো কড়াকড়ির ভেতরও কারা ফেসবুকের এইসব তথ্য ওয়েবে ছড়িয়ে দিচ্ছে, তারা কিভাবে পারছে?

টেকক্রাঞ্চ অনুসন্ধান করে দেখেছে, এরকম তথ্যগুলো যতটা না যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রকাশিত হচ্ছে তারচেয়েও বেশি হচ্ছে মানুষের ইচ্ছায় বা মনের ভুলে। অনেকেই পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত না করেই তথ্যগুলো সংরক্ষণ করে  যার ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন