রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

লাইফওয়েতে অভিযান: আটক ৮, জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার ১৫০ যুবক

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ | ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় লাইফওয়ে কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। এ সময় উত্তরার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে আটকে রাখা ১৫০ যুবককে উদ্ধার করেছে র‌্যাবের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে অভিযান চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-১ এর অপারেশন অফিসার এএসপি সুজয় সরকার।

এএসপি সুজয় সরকার সারাবাংলাকে বলেন, র‌্যাব-১ এর কাছে অভিযোগ আসে, এমএলএম কোম্পানির আদলে তৈরি লাইফওয়ে কোম্পানি চাকরি দেওয়ার নামে যুবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। কেউ কেউ টাকা দিতে না পারলে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরায় একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অপারেশন অফিসার বলেন, অভিযানে দেখা যায়, ওই কোম্পানির কোনো পণ্য নেই। একজন যোগদান করার পর তাকে বলা হয়, ১৫ দিন থাকা খাওয়া, প্রশিক্ষণ ও পোশাকের জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে। ওই টাকা দেওয়া হলে এক সপ্তাহ পর আবার ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরের টাকা না দিলে চাকরি হবে না আবার পূর্বের টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়।

১৫ দিন পর প্রথমে যোগদান করা ব্যক্তিকে দুজন ব্যক্তি যোগাড় করে আনতে। একজনের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়ে গেলেই এবার তাকে বলা হয়, দুজন লোক যোগাড় করে আনতে। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব অথবা পরিচিতজনকে সহজেই নিয়ে আসা যাবে বলে পরামর্শ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উপায় না পেয়ে পরিচিত কাউকে নিয়ে এসে কোম্পানিতে ঢুকিয়ে দেন। এতে সামান্য কিছু টাকা পেলেও নতুন করে দ্বিতীয় ব্যক্তিও প্রতারণার শিকার হয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

অভিযান দলের নেতৃত্বে থাকা এএসপি বলেন, ‘এভাবে প্রায় ১৫০ জনের মতো যুবককে তারা বিভিন্ন বাসা বাড়িতে আটকে রেখেছে এমন খবরের ভিত্তিতে ওইসব বাসা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১৫০ জন যুবককে উদ্ধার করা হয়।’

উদ্ধার হওয়া যুবকদের দাবি, তাদের চাকরি দেওয়ার নামে উত্তরায় এনে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে প্রশিক্ষণের নামে আটকে রাখা হয়। কিন্তু কবে নাগাদ চাকরিতে যোগদান বা যোগদান পত্র কোনো কিছুই স্পষ্ট করেননি কোম্পানির পরিচয় দেওয়া কর্মকর্তারা।

এএসপি সুজয় সরকার বলেন, ‘আমরা ৮ জনকে আটক করেছি। তারা এরই মধ্যে কয়েক হাজার যুবকের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে তারা। প্রতারকদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন