রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ | ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মীর মেহেদী হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে তিনি বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় এ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা সারাবাংলা ডট নেটকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সভায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অযোগ্যতার কারণেই এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন দলের প্রধান।

তিনি বলেন, “উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আয়োজিত সভায় ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তোলেন নেত্রী। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিশেষ করে তারা দুপুরের আগে ঘুম থেকে ওঠে না’।”

বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে সভায় উপস্থিত আরেক নেতা শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা অনুষ্ঠানস্থলে যায়। সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদকেও তারা বসিয়ে রেখেছে।’

এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের সম্মেলনের দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কমিটি দিতে না পারা, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি করার বিষয়ে অনৈতিক অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠা, কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক বিতর্কিত, বিবাহিত ও জামায়াত-বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পদায়ন করার বিষয় নিয়েও অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

যৌথসভার কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ১০ মিনিট ধরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, সভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, শনিবার সভা চলাকালে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে তারা আর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেননি।

ছাত্রলীগ মূলত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন। আওয়ামী লীগের পরামর্শ ও নির্দেশনায় সংগঠনটি চলে।

গত বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন