রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বেহাল জহুর আহমেদ, চুরমার গ্যালারি

সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ | ৬:০৪ অপরাহ্ণ

মহিবুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম থেকে: যে দিকেই তাকাই ভাঙা চেয়ার। কোনোটি আধা ভাঙা। প্লাস্টিকের চেয়ারের সেই ভাঙা অংশে জমেছে পানি, জন্মেছে ডেঙ্গু মশা। কোনোটি আবার কনক্রিট থেকে সমূলে উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। পড়ে আছে লোহার স্ক্রু। ম্যাচের উত্তেজনায় কেউ ভুল করে বসে পড়লে নির্ঘাৎ বিপদ। মারাত্মক জখম হওয়ার ঝুঁকি। কোনো কোনো গ্যালারিতে আবার চেয়ার নেই। একেবারে খালি পড়ে আছে। কবে বসানো হবে কেউ বলতে পারছে না! অথচ এটি এদেশের স্বনামধন্য একটি টেস্ট ভেন্যু। যেখানে নিয়মিতই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর বসে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের সাগরিকা রোডে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁসে অবস্থিত জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটির যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৪ সালে। সেবারই এখানে বসেছিল আইসিসির অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আসর। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা পেতে সময় লেগে যায় আরও দুই বছর। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভেন্যুটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুর মর্যাদা পায়। ২০১১ সালে আইসিসি বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভেন্যুটিতে আধুনিকিকরণের কাজ হয়। এরপরে আর কেউ মাঠের দিকে ফিরেও তাকায়নি।

ট্রাজেডিটা এখানেই। দিনের পর দিন উপেক্ষিত ও অবহেলিত পড়ে থাকায় আজকের এই বেহাল দশা। যেন দেখার কেউ নেই! অথচ ভেন্যু কর্তপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) একাধিকবার গ্যালারি সংস্কারে তাড়া দিয়েছে বিসিবি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি! করছি, করি বলেই এড়িয়ে গেছে।

সারাবাংলার সঙ্গে একান্তে আলাপকালে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেন সে কথাই জানালেন, ‘স্টেডিয়ামটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্পত্তি। চেয়ারগুলো ২০১১ সালে বসানো হয়েছে। কিছু কিছু চেয়ারের টেম্পার চলে গেছে, কিছু কিছু ভেঙে গেছে। আমরা আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি।’

বিজ্ঞাপন

তবে আশার কথাও শোনালেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই সিনিয়র গ্রাউন্ডস ম্যানেজার। চট্টলার ক্রিকেট প্রেমীরা যাতে করে স্বাচ্ছন্দে গ্যালারিতে বসে ক্রিকেটের উত্তাপ নিতে পারেন সেজন্য সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে তারা চিঠি দিয়েছেন। উত্তরে ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

সৈয়দ আব্দুল বাতেন জানালেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি এগুলো বদলে নতুন চেয়ার দেওয়ার জন্য। কয়েকদিন আগে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে গিয়েছে। গ্যালারিসহ বৈদ্যুতিক ও স্যানিটারির কিছু কিছু কাজ বাকি আছে। যা তারা অচিরেই শুরু করবে।’

কিন্তু সেটা কবে থেকে? বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্টের পরে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এখানে গড়াবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ত্রিদেশীয় সিরিজ, ডিসেম্বরে বিপিএল। কিন্তু গ্যালারির যে হাল তাতে অনতিবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু না করলে তো বিপদ। ভক্তরা এসে আহত হয়ে ফিরবেন। ঠিক সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব মাসুদ করিমের সঙ্গে। কিন্তু ওপার থেকে তার ফোন বলল, ‘এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সারাবাংলা/এমআরএফ/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন