বিজ্ঞাপন

‘জিয়া-এরশাদকে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করা আদালতের রায় অনুযায়ী বৈধ নয়’

September 8, 2019 | 10:18 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: ব্যক্তি এরশাদকে অমায়িক মনের মানুষ হিসেবে অভিহিত করলেও সেনাপ্রধান হয়ে তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ক্ষমতায় আসার সমালোচনা করেছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সামরিক শাসনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদের ক্ষমতা দখলকে দেশের উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এই রায়ের পর এ দু’জনকে (জিয়া ও এরশাদ) আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা যায় না। তাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী বৈধ নয়।

আরও পড়ুন- ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ এরশাদকে নিয়ে সংসদে শোক প্রস্তাব

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন বিরোধী দলীয় নেতা প্রয়াত এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জেনারেল এরশাদ সাহেব অমায়িক মানুষ ছিলেন, মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল। তিনি এইচ এম এরশাদের আত্মার মাগফিরাতও কামনা করেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদেরও অনেক কিছুই বলার আছে। কারণ আমরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তারপরও দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে অনেক কিছু হজম করে যাচ্ছি।

আশির দশকের রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালের নির্বাচনে বিচারপতি সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। কিন্তু একটি বিদেশি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরশাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিচারপত্তি সাত্তার তার প্রার্থী। আমরা এর বিরোধিতা করেছিলাম। আমরা বিচারপতি সাত্তার সাহেবকে বলেছিলাম, এভাবে প্রার্থী হওয়া উচিত না। বরং গণতন্ত্রের স্বার্থে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা তা করেননি।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এরশাদই খালেদা জিয়াকে দুইটি বাড়ি ও নগদ ১০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ কারণে জিয়া হত্যার ঘটনায় যে মামলা হয়েছিল, সেই মামলা বিএনপি কখনো চালায়নি। বহু বছর পর ১৯৯৪ সালের দিকে এসে জেনারেল এরশাদকে তার স্বামী হত্যার জন্য দায়ী করেছেন খালেদা জিয়া। এর আগে কখনো দায়ী করেননি। এগুলো ক্ষমতা তুলে দেওয়ার অংশ। তবে এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছি।

সংসদ নেতা বলেন, প্রথমে মার্শাল ল’ জারি করে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করে। এরপর নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে নেন। এর আগে জিয়াউর রহমানও তাই করেছিলেন। কিন্তু আদালত তাদের এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন।

ব্যক্তি এরশাদের প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, জেনারেল এরশাদ ছিলেন অমায়িক মানুষ, মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল। আবার জেনারেল জিয়া কিন্তু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেও কখনো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেননি। সেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন জেনারেল এরশাদ। তিনি ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সাভার স্মৃতিসৌধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেছেন। মুজিবনগরের স্মৃতিসৌধগুলো তৈরি করেছেন। তবে এরশাদের শাসনামলেও তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে, ১৯৮৮ সালে লালদীঘির ময়দানে সভায় গুলি ছোঁড়া হয়েছে— এসব ঘটনারও উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা মনে করেন, সামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতায় এলেও ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে পারলে এরশাদ এত বিতর্কিত হতেন না। তিনি বলেন, জনসমর্থন না থাকলে নির্বাচন নিয়ে যে যাই করুক না কেন, কেউ টিকে থাকতে পারে না। এরশাদ পারেননি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়াও পারেননি। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই বিএনপির আন্দোলনের ডাকে দেশের জনগণ সাড়া দেয়নি। যদি নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিত, তবে তারা আন্দোলন করে আমাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারত। তাই অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়েই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন