রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘সেই’ ৮ ডাকসু নেতা, উপাচার্য ও ডিনের পদত্যাগ দাবি

সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ | ৮:৩২ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত আট জন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ভর্তি পরীক্ষা না দিয়ে নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে ভর্তি হয়ে নির্বাচন করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। মানববন্ধন থেকে তারা ওই আট ডাকসু নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি জানান— যারা অবৈধভাবে ভর্তি হয়েছেন, তাদের ছাত্রত্ব ও ডাকসুর পদ বাতিল করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে ওইসব পদে দ্রুত উপনির্বাচন দিতে হবে; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামকে পদত্যাগ করতে হবে; এবং বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের পদত্যাগ করতে হবে।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন চিরকুটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের ৩৪ জন নেতাকে যে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশবিরোধী কাজ ও নৈতিকতার স্খলন। তাই তাদের উচিত দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা। এছাড়া, ডাকসুর পদগুলো থেকে ছাত্রলীগের আটজন নেতাকে বহিষ্কার করে তাদের শূন্য পদগুলোতে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্লজ্জ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একটা গৌরবোজ্জ্বল পরিচয় ছিল, সে পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করে। আপনারা জানেন, কিছুদিন আগে  রোকেয়া হলের নিশিরাতের অবৈধ নির্বাচিত নেত্রীরা কিভাবে অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব অনিয়মের মূল হোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে যে পরিমাণ সংবাদ প্রচারিত হয়, তা থেকেই ধারণা পাওয়া যায় তিনি কেমন। আজকের মানববন্ধন থেকে অনতিবিলম্বে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক মশিউর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনো কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। কিন্তু ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাত ৩টায় ডাকসুর ফলাফল ঘোষণা করেছে। এ নির্বাচনে প্রহসন চালিয়ে কিভাবে অন্যায় করেছে, কিভাবে প্রহসনের নির্বাচন চালিয়েছে, কিভাবে ডাকসুকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, তা আপনারা জানেন। এত অন্যায় হওয়ার পরও আমরা বারবার ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ করেছি। এত প্রতিবাদ করার পরও যাদের ডাকসুতে প্রতিনিধি করা হয়েছে, তারা ঢাবিতে অবৈধভাবে ভর্তি হয়েছে। আমাদের মাথায় আসে না, তারা শিক্ষক হয়ে বিভাবে এটা করেছেন। আমরা মনে করি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দালাল ভিসি এবং বিজনেস অনুষদের ডিন তাদের নির্বাচিত করতে সাহায্য করেছে। এজন্য ভিসি নিজে দায়ী। এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বসে থাকবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, আমরা জেনেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু কারচুপির মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচন দিয়ে ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দিয়ছিল। কিন্তু আজ আমরা জানলাম, শুধু কারচুপি নয়, তারা কারচুপি ও জালিয়াতির মাধ্যমে ছাত্রত্ব দিয়ে তাদের ডাকসুতে স্থান দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যকার সম্পর্ককে ভূলুণ্ঠিত করেছেন। এর মাধ্যমে তাদের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। তাই অবিলম্বে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন দেওয়া এবং উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট ডিন, চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই অছাত্র হয়ে ডাকসুর সভাপতি হয়েছেন। তাই তিনি অছাত্রদের ডাকসুতে জায়গা করে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতা ডাকসুর ওই আট সম্পাদক ও সদস্যদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি। এছাড়া তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিনের পদত্যাগ দাবি করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ‘পরীক্ষা ছাড়া ডাকসু নেতা আমাদের নেতা নয়’, ‘ডাকসু খায়া দিছে’, ‘ডাকসুর জালিয়াত, ঢাবি ছাড় ঢাবি ছাড়’, ‘এক দুই তিন চার, দালাল ভিসি গদি ছাড়’, ‘যে ডাকসু অছাত্রদের, সেই ডাকুস চাই না’ ইত্যাদি লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।

মানবন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, আকরাম হোসেনসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী বিভিন্ন নেতা ও বামজোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, রোববার একটি জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগের ওই ৩৪ নেতা ভর্তি হন উপাচার্য ও ডিনের চিরকুটের মাধ্যমে।

নির্বাচন করতে আগ্রহী এই ৩৪ জনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সম্পাদক ও সদস্য পদে নির্বাচনে আট জন অংশ নেন, বিজয়ী হন সাতজন। এ ছাড়া দু’টি হল সংসদের ভিপি পদে অংশ নেন দু’জন। এর মধ্যে একজন নির্বাচিত হন, অন্যজন পরাজিত হন। আরেকজন ছিলেন ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য।

সারাবাংলা/কেকে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন