রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে ত্রুটি, ঝুলে আছে হোসনি দালান বোমা হামলা মামলার বিচার

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসনি দালানে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় বোমা হামলা মামলার বিচার চার বছরেও শেষ হয়নি। অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় গত এক বছর ধরে ঝুলে আছে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সঠিকভাবেই চলছিল। কিন্তু গত বছর এ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি জাহিদ হাসানের (রানা) আইনজীবী দাবি করেন, মামলায় চার্জশিট দাখিল হওয়ার সময় তার আসামির বয়স ১৭ বছর ছিল। আইন অনুযায়ী সে শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হতে হবে।

এ কারণে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। সম্প্রতি ওই সম্পূরক চার্জশিট দাখিল হয়েছে। তাই এ সময়ের মধ্যে ধার্য তারিখে তারা সাক্ষী এলেও সাক্ষ্য নিতে পারেননি। এখন সে সমস্যা কেটে যাওয়ায় নিয়মিত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানান রাষ্টপক্ষের এ আইনজীবী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ এ বিষয়ে সারাবাংলাকে বলেন, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে মারাত্মক ভুল করেছেন। একজন নাবালককে তিনি সাবালক হিসেবে উল্লেখ করে চার্জশিট দিয়েছেন। মূলত তদন্ত কর্মকর্তার ত্রুটির কারণে মামলটির বিচারকাজ এগোচ্ছে না।

তিনি বলেন, গত এক বছর থেকে মামলাটিতে কোন সাক্ষ্য হয়নি। বিনা বিচারে আসামিরা কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা যে ধারায় চার্জশিট দাখিল করেছেন সেই ধারা অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু আসামি কিশোর হলে তার সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর। এটা তদন্ত কর্মকর্তার ভুল। এছাড়া এ পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষী আদালতে হাজির করেছেন, তারা এসে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো কিছু বলেনি বলেও মন্তব্য করেন  ফারুক আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে বিচারধীন।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আরমানের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হোসেন তার জামিনের আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। একই সঙ্গে মামলাটির সাক্ষী না আসায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন আদালত ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসনি দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হলে জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা হোসনী দালানে বোমা হামলা চালায়। এতে দু’জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ওই ঘটনায় রাজধানীর চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা করেন।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনায় তাদের (আইএস) কোনো যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১০ জঙ্গির নামে চার্জশিট দাখিল করেন। এর পরের বছর ৩১ মে ১০ জঙ্গির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। ২০১৮ সালের ১৪ মে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামী ১০ জন-শাহাদাৎ ওরফে আলবানি ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা, আবদুল বাকি আলাউদ্দিন ওরফে নোমান, সাঈদ ওরফে হিরন ওরফে কামাল, জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোসায়েব, আরমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, মাসুদ রানা, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, আবু সাঈদ সোলায়মান ওরফে সালমান, শাহ জালাল, চাঁন মিয়া ও ওমর ফারুক ওরফে মানিক।

এর মধ্যে আসামি ওমর ফারুক ওরফে মানিক, শাহ জালাল, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ ও চাঁন মিয়া -এই চারজন জামিনে আছেন। ৬ জন কারাগারে। বাকি ছয় আসামি কারাগারে রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে জাহিদ হাসান ওরফে রানা, আরমান ও কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক বিভিন্ন সময়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার মোট সাক্ষী ৪৬ জন। এর মধ্যে ১১ জন সাক্ষ্য দিতে পেরেছেন আদালতে।

সারাবাংলা/এআই/জেডএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন