সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নামের মিলে নিরাপরাধ কারাগারে, ওসিসহ ৬ পুলিশকে শোকজ

সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আসামি না হয়েও শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় যৌতুক আইনের মামলায় গ্রেফতার কিশোরগঞ্জের জামসু মিয়াকে (৩৭) মুক্তির আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভুলের জন্য ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ছয় সদস্যকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন পুলিশ প্রতিবেদন ও মামলার বাদীর বক্তব্য পর্যালোচনায় নিয়ে এ আদেশ দেন। এসময় ভুল আসামি গ্রেফতারের জন্য কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? এই মর্মে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ জামানসহ পুলিশের ছয় সদস্যকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশের অপর পাঁচ সদস্য হলেন- পরোয়ানা তামিলকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামছুল হাবিব, উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিম, উজ্জল ও আজিজুল।

নিরাপরাধ জামসু কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার উদিয়ারপাড়ার সিরাজুল হকের ছেলে। গত ৮ আগস্ট থেকে আসামি না হয়েও পুলিশের ভুলের জন্য ৩৩ দিন কারাগারে ছিল সে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আদালতের আদেশ অনুযায়ী গত ৫ সেপ্টেম্বর ওসি মোহাম্মাদ মোর্শেদ জামান আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল আসামি সিরাজ মিয়ার পুত্র মো. জামসু মিয়া ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা পরোয়ানা পাওয়ার পর তা তামিলের জন্য এসআই শাসছুল হাবীবের কাছে পাঠানো হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট এসআই ফারুক আহমেদ, তিন এএসআই আব্দুল হালিম, উজ্জল ও আজিজুল সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।

তবে গ্রেফতার জামসু মিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে কোন মামলা নেই। এ কারণে ওসি ভুল শিকার করে ক্ষমা চেয়ে গ্রেফতার জামসু মিয়ার মুক্তি প্রার্থনা করেন। এদিকে সোমবার শুনানিকালে আদালতে মামলার বাদী মাহুরা খাতুন উপস্থিত হন। তিনিও গ্রেফতার আসামি তার স্বামী নন বলে আদালতকে জানান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ জুন ঢাকা সিএমএম আদালতে মানহুরা খাতুন (২৬) তার স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. জামসু মিয়ার ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে সিআর ২১৯/২০১৫ মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলার আসামি গত ১ মার্চ থেকে পলাতক।

ওই মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মাদ মিল্লাত হোসেন এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামির অনুপস্থিতিতে একবছর তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। রায়ের সময় আসামি পলাতক থাকায় আদালত তার স্থায়ী ঠিকানায় বরাবর কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ইটনা থানায় একটি সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

চলতি বছরের ২৫ জুলাই ইটনা থানায় ওই পরোয়ানা পৌঁছানোর পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মোর্শেদ জামান ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামছুল হাবিবকে পরোয়ানা তামিলের জন্য দায়িত্ব দেন। গত ৭ আগস্ট এসআই শামছুল হাবিব ইটনা থানার সিরাজুল হকের ছেলে মো. জামসু মিয়াকে গ্রেফতার করে পরদিন কিশোরগঞ্জে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠান।

এরপর গত ২২ আগস্ট রায় প্রদানকারী আদালতে ভুক্তভোগী মো. জামসু মিয়ার আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ ভুলভাবে আসামি গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জামিনের আবেদন করলে তা না মঞ্জুর করেন আদালত।

অপরদিকে প্রকৃত আসামি মো. জামসু মিয়ার (সাগর) আইনজীবী এস এম গোলাম ছোবহান শেখুন বলেন, ‘আমার মামলার আসামিকে আমি চিনি। যে আসামিকে পুলিশ ধরে এনেছে সে ওই আসামি নয়।'

মামলার বাদী মানহুরা বলেন, ‘তার স্বামী জামসু মিয়ার (সাগর) বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে তিনি মামলা করেন। মামলার পর জামিন নিয়ে সে ২০১৬ সালে মরিশাস পালিয়ে যায়। এখনও সে সেখানেই রয়েছে।’

সারাবাংলা/এআই/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন