মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে শাহবাগে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ

সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ | ১১:০১ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: খুলনায় খালিশপুরে ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)। সমাবেশে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থলের দাবি জানান বক্তারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহবাগের প্রজন্ম চত্ত্বরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের মহাসচিব ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য, ডাক্তারদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ডাক্তারদের ওপর লাঞ্ছনা বেড়েই চলেছে। আর তাই অতি দ্রুত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করতে হবে। এটা নিয়ে কোনো রকমের টালবাহানা চলবে না। আর এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মাঠে নামা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের সেবা করতে হলে, আগে ডাক্তারদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তাই আমরা নিরাপত্তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাব। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাব।’

বিজ্ঞাপন

এ সময় খুলনার খালিশপুরে ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন।

সমাবেশে খুলনা বিএমএ’র দফতর সম্পাদক ডা. হাসান বলেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজকে শাহবাগে দাঁড়িয়েছি। এ মুহূর্তে যখন কথা বলছি, তখন হয়তো দেশের কোথাও ডাক্তার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ নিপীড়নের শেষ কোথায়? ডাক্তারদেরও চাওয়া আছে, তাদের চাওয়া পূরণ করা উচিত। আজকে যখন দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে, তখন স্বাস্থ্যখাতে এ অরাজকতা কেন?’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীন হলে তারা মানুষের সেবা দিবে কিভাবে? চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. এ কে এম জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমি ডা. সুজাকে চিনি না। তারপরেও তার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। অথচ ডাক্তারদের বড় বড় সংগঠনগুলোর এ ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের কোনো প্রতিবাদ দেখছি না। সবার মনে রাখা উচিত, আজকে সুজার ওপর হামলা হয়েছে, কাল হয়তো আমার-আপনার ওপর হামলা হতে পারে।

প্রতিবাদ সমাবেশে ডা. মো. রাশিদুল হক বলেন, ‘চিকিৎসক ও রোগীদের সম্পর্ক হচ্ছে স্বর্গীয়। অথচ আজকে ডাক্তাররা হামলার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন হামলার বিচার না হওয়ায় বারবার এমনটি হচ্ছে। আমরা ডা. সুজার ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে কেউ ডাক্তারদের ওপর হাত তুলতে সাহস না পায়।’

অধ্যাপক নোমান চৌধুরী বলেন, ‘দেশের সব জায়গায় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ দেওয়া হয়। অথচ ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের হেলথ পুলিশ দরকার।’

প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজক সংগঠন এফডিএসআরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘ডা. সুজা উদ্দিন সোহাগের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের তিনদিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। আমরা ডা. সুজার ব্যাপারে খুলনা বিএম-এর সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। তারা যে কর্মসূচি দিবে, আমরা ঢাকায় সে কর্মসূচি পালন করব।’

প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনের মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরানের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন ডা. আব্দুন নূর তুষার, ডা. সিএম আনোয়ার, ডা. জাহানারা হক ঝুমু, ডা. হাসানুর রহমান, ডা. ফরহাদ মঞ্জুর, ডা. আসাদুজ্জামান রিন্টু, ডা. পারিছা ও ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. আসাদুজ্জামান রিন্টু, কোষাধ্যক্ষ ডা. ফরহাদ মনজুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. নোমান চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী, কার্যকরী পরিষদের সদস্য ডা. সোহেল মাহমুদ, ডা. রাশিদুল হক, ডা. ওমর ফারুক লপ্তি, ডা. নাজমুল হোসেনসহ অন্যরা।

এদিকে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এফডিএসআর) সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাই। চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীন হলে তারা মানুষের সেবা দিবে কিভাবে? চিকিৎসকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর খুলনার খালিশপুর ক্লিনিকে রিপন (২৪) নামে এক পলিটেকনিক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজা উদ্দিনকে ব্যাপক মারধর ও জোর করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি গুরুতর অবস্থায় অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন