মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দাম কমেছে চালের, বাড়তির দিকে ইলিশের বাজার

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | ৬:১১ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বর্ষায় সবজির দাম কিছুটা বেশি ছিল। তবে শরতের শেষদিকে বাজারে নতুন কিছু সবজি আসায় দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে বাজারে ২০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়লেও কমেছে চালের দাম। কিন্তু মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি দেখা গেলেও দাম রয়েছে বাড়তির দিকে। এছাড়া মাছ, মাংস ও ডিমের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাওরানবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানকার পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও ওই পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পাইকারি বিক্রেতা শহীদুল বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। ’

বিজ্ঞাপন

পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা লোকমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে সব পণ্যের দাম বাড়বে। বাড়তেই থাকবে। কোনো কিছু কমবে না। দাম কমবে শুধু মানুষের। ’

এদিকে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে রসুনের দাম কেজিতে কমেছে ২০টাকা। বর্তমানে রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারে নতুন সবজির মধ্যে শিম ৮০ টাকা ও মূলা ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দাম ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই রয়েছে। একই অবস্থা মহাখালীর বউবাজারেও। সেখানে বেগুন ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা শশা ৩০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটো ও গাজার ১০০ টাকা, এবং শিম ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর অলিগলি ইলিশে ভরে উঠেছে। প্রায় সারাদিনই ইলিশের ফেরিওয়ালাদের হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এর পেছনে আড়তদারদের হাত রয়েছে বলে জানা গেছে।

কাওরান বাজারের আড়তদারদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ এক কেজি থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায়। আর ৯০০ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশের দাম ৩৪০০ থেকে ৩৬০০ টাকা। এছাড়া ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের হালি ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায়, ৭০০ গ্রাম ওজনের ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায় এবং ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের ইলিশের আড়তদার গাজী হিরু অ্যান্ড ফিরোজ ব্রাদার্সের পরিচালক গাজী আল মামুন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে ইলিশের দাম তেমন একটা কমেনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা বেড়েছে। আর আবহাওয়া ভালো না থাকায় জেলেরা এখন সমুদ্রের কিনারে চলে এসেছে। ফলে বাজারে ইলিশের তেমন একটা সরবরাহ নেই।’

তবে বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে ইলিশে ভরপুর বাজার। কোনো কোনো আড়তে বিকাল পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ক্রেতারাও কিনছেন সাধ্যমতো।

এদিকে বাজারে চালের দাম রয়েছে নিম্নমুখী। বর্তমানে মিনিকেট ৪৫ টাকা, আঠাশ ৩৬ টাকা, পাইজাম ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের কর্মচারী বাবলু বলেন, ‘চালের দাম এখন খুবই কম। ঈদের পর থেকেই চালের দাম কমেছে।’

এদিকে বাজারে মাংস ও ডিমের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৩৫ টাকা, পাকিস্তানি ২৫০ টাকা ও দেশি ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর প্রতি ডজন ডিমের দাম গত কয়েক সপ্তাহের মতোই ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন