সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মেড ইন বাংলাদেশ: যে সংগ্রামের নেই কোনো সীমানা

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | ৬:৪৮ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

সংগ্রামের শেষ থাকে না কখনো। সংগ্রাম শুরু হয়, আবার কখনো বন্ধও হয়, কিন্তু আবার তা জেগে ওঠে, উঠতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম–যাই বলা হোক না কেন, তা তো জীবনেরই জন্য। জীবনকে এগিয়ে নিতেই সেই সংগ্রাম পরম্পরার মতো উঠে যায় এক শিমুর কাঁধ থেকে অন্য শিমুর কাঁধে।

বিজ্ঞাপন

শিমুরা সেই সংগ্রাম বয়ে নিয়ে যায়, যেতে থাকে, কিন্তু পথ ফুরায় না। জীবন মানের উন্নয়নে সংগ্রাম বা অধিকার আদায়ের সংগ্রামের যে পথ, তার নেই কোনো সীমানা। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ছবিতে পরিচালক  রুবাইয়াত হোসেন তেমন এক পথের গল্প বলেছেন। তবে শুধু পথের গল্পই নয়, সঙ্গে নারীর অধিকার আদায়ে সচেতনতা বা নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব নিয়ে ধরা দিয়েছে সিনেমায়।

টরেন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালের ৪৪তম আসরে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রিমিয়ার হওয়ার পর ‘ইন দ্য সিটস’ সাইটে প্রকাশিত এক রিভিউতে পাওলো কাগাওন বলেছেন, ‘ছবিতে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে নারীবাদি বিচক্ষণতা। আর এটাই রুবাইয়াত হোসেনের স্টাইল।’

বিজ্ঞাপন

এই বিচক্ষণতা প্রকাশ করতে রুবাইয়াত আস্থা রেখেছেন গল্পের ওপর তো বটেই, সঙ্গে অভিনেত্রী শিমু’র ওপরও। প্রকৃতই তার নাম শিমু, ছবিতেও তাই। এই চরিত্রটিই রুবাইয়াতের চিৎকারের ভাষা। নারীর বঞ্চনার ঘটনা অনেকের মতো রুবাইতকেও আহত করে, রুবাইয়াত প্রতিবাদ করতে চায় এবং তিনি করলেন–সিনেমার মাধ্যমে, শিমু চরিত্রের সংলাপ, ভঙ্গি তথা এগিয়ে চলার মাধ্যমে।

সিনেমাস্কোপ অনলাইনে প্রকাশ হওয়া একটি বিশ্লেষণে ডানা রিনোস লিখেছেন, ‘রুবাইয়াত তার দৃশকল্পের মাধ্যমে সুন্দরভাবে বুঝিয়েছেন যে নারীরা সহীংসতার শীকার। কিন্তু সেই সংগ্রামে জয়ী হওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে। চাইলে তারা লড়াইও করতে পারে।’

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এই সিনেমার ঘটনা বা গল্প অপরিচিত নয়। কিন্ত সিনেমার সংলাপ, মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আবারও ভাবনায় ফেলে দিতে পারে দর্শকদের।

ছবিতে শিমু চরিত্রটির বয়স ২৩। সে একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। বঞ্চনা আর অধিকার আদায়ের যুদ্ধ যেন তার নিয়মিত যুদ্ধ। মূলত এই পরিস্থিতি শুধু শিমুর না, প্রতিকী অর্থে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করা প্রতিটি নারী কর্মীর। জীবনটাই সেখানে তুচ্ছ। আর জীবনের উন্নতির কথা ভাবা অন্যায়।

নারী কর্মীরা ঘর থেকে ফ্যাক্টরি, ফ্যাক্টরি থেকে ঘর, এই রাস্তার মধ্যে তাদের জীবনকে জেন বেঁধে ফেলেছে। আর সেই পথ এমন এক পথ, যা আর শেষ হয় না। অসহায় জীবন সেই পথে সংগ্রাম করে এগিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু কোনো সীমানা পায় না।

সারাবাংলা/পিএ/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন