মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘ঢাবির মাস্টার্স ভর্তিতে কোনো অনিয়ম হয়নি’

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাবি: ডাকসু নির্বাচনের সময় উপাচার্যের চিরকুট ও ডিনের সহায়তায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছাত্রলীগের ৩৪ জন নেতাকে ভর্তি করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভাগগুলোর চেয়ারম্যান কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ওই শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স প্রোগ্রামে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ভর্তি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি। গত রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের যেকোনো মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির নিয়ম সম্পর্কে অধ্যাপক শিবলী বলেন, ‘দেড় বছর আগে অনুষদের বিভাগগুলোর চেয়ারম্যান কমিটি ও অনুষদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিই যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা অনুষদের যেকোনো মাস্টার্স প্রোগ্রামে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ভর্তি হতে পারবে। আর অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থীরা যারা বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা, করপোরেট হাউজ ও টেলিকমে কাজ করে বা চাকুরির সুযোগ পায়, তাদের শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের পর ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের যথাযথ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হতে হবে।'

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক শিবলী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে যে সকল শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে তাদের কাউকেও বাহির থেকে এনে ভর্তি করিয়ে নির্বাচন করানো হয়নি। তারা সকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট। এবং গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে মাস্টার্স করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।’

বিজ্ঞাপন

প্রকাশিত পত্রিকার সংবাদটি পড়লে মনে হয় বাহিরের শিক্ষার্থীদের ডাকসু নির্বাচন করানোর জন্য বেআইনিভাবে ঢাবিতে ভর্তি করানো হয়েছে; যা একেবারেই ঠিক নয়। এখানে আলোচিত শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই ঢাবির সাধারণ পদ্ধতিতে ভর্তি হওয়া গ্র্যাজুয়েট। তাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেকবার ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। এখানে অনিয়ম করা হয়েছে বলে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তা সঠিক নয়।’

প্রসঙ্গত, গত রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) একটি জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে, ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগ নেতারা উপাচার্যের সই করা চিরকুট ও অনুষদের ডিনের সহায়তায় নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তি হন।

৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের সম্পাদক ও সদস্য পদে নির্বাচনে আটজন অংশ নেন, বিজয়ী হন সাতজন। এ ছাড়া দুটি হল সংসদের ভিপি পদে অংশ নেন দুজন। এর মধ্যে একজন নির্বাচিত হন। আরেকজন ছিলেন ডাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য।

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন