রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

এডিসের লার্ভা ধ্বংসের নামে ছাদবাগান ধ্বংস নয়: পবা

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার কারণে যে প্রাণহানি ঘটছে সেজন্য কোনোভাবেই ছাদবাগান দায়ী নয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, এডিসের লার্ভা ধ্বংসের নামে ছাদ বাগান ধ্বংস করা উচিত নয় বরং প্রয়োজন বাগানের সম্প্রসারণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা।

বিজ্ঞাপন

তবে পবার পক্ষ থেকে এও বলা হয়, ভারী বর্ষণে ছাদের গাছের টবে বা পরিত্যক্ত টবে স্বল্প সময়ের জন্য পানি জমে থাকতে পারে। বর্ষার মৌসুমে গাছের টব এবং অন্যান্য অব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাদ থেকে সরিয়ে রাখতে হবে। সর্বদা বাগান ও ছাদ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। তাহলে কোনো মশাই বংশবৃদ্ধি করতে পারবে না।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) পবা’র সেমিনার কক্ষে পবা ও বাংলাদেশ গ্রিন রুফ মুভমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ : ছাদবাগান ও পরিবেশ সুরক্ষা-শীর্ষক অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, প্রথমত এডিস মশা পানিতে ডিম পাড়ে না। দ্বিতীয়ত ছাদবাগানে কোনো গাছের পাত্রে একাধারে ৩-৫ দিন পানি জমে থাকে না, থাকলে গাছই মারা যাবে। তাই নগরীর জীববৈচিত্র্য ও উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখা ছাদ বাগান এডিস মশা বংশবৃদ্ধির জন্য দায়ী নয়।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, এডিসের লার্ভা ধ্বংসের নামে ছাদবাগান ধ্বংস নয় বরং প্রয়োজন এর সম্প্রসারণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা। যেসকল বাড়িওয়ালা ডেঙ্গুকে কেন্দ্র করে সবুজায়নে বাধা সৃষ্টি করছে, ছড়িয়ে দিচ্ছে মিথ্যা আতংক, তাদের বিরদ্ধে সরকারিভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সামাজিকভাবেও বয়কট করা হোক।

বক্তারা বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে সবুজায়ন আর অক্সিজেনের জোগান দিতে বারান্দা বা ছাদবাগান করার জন্য উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়েছিল সিটি করপোরেশন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ছাদ বাগান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা আমরা সকলে জানি পরিবেশ রক্ষায় সবুজায়নের ভূমিকা অপরিসীম।

ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে সবুজ শূন্য হয়ে পড়েছে নগর। ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে ঢাকার উষ্ণতা। দরকারি নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ, প্রজাপতি, পশু-পাখি শূন্য হয়ে পড়ছে নগর। প্রাণবৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। মানুষ নানাবিধ রোগ বালাইয়ে জরাজীর্ণ অর্থাৎ পরিবেশ বিপর্যস্ত। এভাবে নগরায়ণ চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে সকল মানুষই কোনো না কোনো নগরে বসবাস করবে। ভবিষ্যতে সারা দেশের পরিবেশে প্রাণীকূলের সুস্থতার সহিত জীবন-যাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মত দেন বক্তারা।

তারা বলেন, ছাদবাগান শহরবাসীর জন্য আশীর্বাদ। সারাদেশের সমগ্র নগরগুলোর ছাদবাগান হবে বিশাল সবুজের কৃষিক্ষেত্র, অক্সিজেনের ফ্যাক্টরি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধে অন্যতম হাতিয়ার, নিরাপদ ফল-মূল, শাক ও সবজির যোগানদাতা। ফলে ছাদবাগান কমে গেলে নগরবাসীর সুস্থতা হুমকির মুখে পড়বে।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রিণ রুফ মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম হায়দার। বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সোবহান, সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, বাংলাদেশ গ্রীণ রুফ মুভমেন্টের সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ, সদস্য মুশহেদা খানম, নুসরাত পলি, মাসুম রেজা, জামিল সিদ্দিক, বাংলাদেশ প্ল্যাট নার্সারিমেন সোসাইটি’র সভাপতি মো. মেসবাহ উদ্দিন, এসো বাগান করি’র সদস্য জাহিদ হাসানসহ অনেকে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিএস/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন