শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘শতভাগ বিদ্যুতায়নে রূপগঞ্জের রূপের ঝলক আরও বাড়বে’

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ৫:০১ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রূপগঞ্জের মতো প্রতিটি উপজেলাতেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা আস্তে আস্তে প্রতিটি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করার ব্যবস্থা করছি। এবার রূপগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হল। এতে রূপগঞ্জের রূপের ঝলক আরও বেড়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই।’

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ৮টি ৩৩/১১ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র এবং ১০ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে নারায়ণগঞ্জে সংযুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। তার আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ প্রান্তে স্থানীয় এমপি পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক), শামীম ওসমান এমপি, এ কে এম সেলিম ওসমান এমপিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রূপগঞ্জ এবং সদর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত। চারটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র খুলে দিলে রূপগঞ্জের চার লাখ এবং সদরের ১৩ লাখ মানুষ উপকার পাবে। আমরা আপনার উন্নত বাংলাদেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পাশে থাকব।’

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ৮০৭টি শিল্প কারখানা আছে সেই দিকটিও তুলে ধরে সেখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করার দাবিও করেন রূপগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে দুইজন উপকারভোগীর কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী। এরা হলেন ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি তৈরি শিল্পের সাথে জড়িত মোহাম্মদ হামিদুল্লাহ এবং শিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার বিথী। শিক্ষার্থী বীথিও নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে সেখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপন করার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।

তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা একটা করে উপজেলা আস্তে আস্তে বিদ্যুতায়ন করছি। রূপগঞ্জ এবার শতভাগ বিদ্যুতায়ন হল। রূপগঞ্জের রুপের ঝলক আরও বেড়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। সেটাই আমরা চাচ্ছি।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাও আমরা করব। কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা এলে আমরা করে দেব। নারায়ণগঞ্জে তো অনেক অর্থশালী, সম্পদশালী লোক আছে। কেউ যদি আসে আমরা পারমিশন দিয়ে দেব।’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। এরপর উদ্বোধন করা উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার উপকারভোগী মানুষের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

একে একে রাঙামাটি, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলা, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা, নোয়াখালী জেলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন এলাকায় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমদ কায়কাউস।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন