শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সহায়তা দিলে আপুকে পরপারে যাওয়া লাগতো না’

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মামলার পর ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সহায়তা দিলে আপুকে আজ পরপারে যাওয়া লাগতো না বলে মন্তব্য করেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। জবানবন্দি সময় আদালতকে তিনি এসব কথা বলেন।

সেখানে রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় রাফির মা ও তার ছোট ভাই সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।

নুসরাত হত্যা মামলা: আজ সাক্ষ্য দেবেন নুসরাতের বাবা

বিজ্ঞাপন

রায়হান বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেমের রুমে আপুকে ডেকে নেওয়া হয়। আমাদের বাইরে থাকতে বলে। ওসির রুম থেকে বের হওয়ার পর কাঁন্না করতে করতে বলে, ওসি মোয়াজ্জেম তার নেকাব সরিয়ে আপত্তির প্রশ্ন করেছে। মামালা দায়ের করার পর থানা ত্যাগ করে আমরা চলে আসি। গত ১২ এপ্রিল আমার ফেসবুক ভিডিওতে দেখলাম আপুকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিয়ে আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এরপর নুসরাতকে ওসির রুমে ডেকে নিয়ে যায়। ওসির রুমের ভিতরে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। এর কিছু সময় পর নুসরাত বের হয়ে আসে। বের হয়ে সে জানাই তার কথা কেউ একজন ভিডিও রেকর্ড করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়েছিল। সেই আগুন ধরানোর ভিডিও ৩০ মিনিট পরে ওসি মোয়াজ্জেম মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়।’

এদিন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ তাদের জেরা করেন। এ নিয়ে পাচঁ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন আদালত।

বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ২৪ জুন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে জেল কোড অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৬ জুন বিকেলে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক হওয়ার পর ওসি মোয়াজ্জেম শাহবাগ থানা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। এরপর ১৭ জুন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারিক আদালত।

সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি থানায় অভিযোগ দিতে আসার পর তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করা ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে।

গত ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এই আবেদন গ্রহণ করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এর আগে, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ রুমে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে থেকেই নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন সিরাজ। তবে মামলা তুলে না নিলে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের সহযোগীরা। গত ১০ এপ্রিলের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এআই/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন