রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

এত দেশ থাকতে উগান্ডায় কেন, প্রশ্ন চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডিকে

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ৮:০৮ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বসে ‘নিরাপদ পানির জন্য উগান্ডায় গিয়ে প্রশিক্ষণ’ নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম ফজলুল্লাহ। নাগরিক উদ্যোগ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে বাসিন্দারা গিয়েছিলেন ওয়াসায়। সংগঠনটির নেতৃত্বে আছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসা ভবনে মতবিনিময়ের সময় খোরশেদ আলম সুজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘এত উন্নত দেশ থাকতে প্রশিক্ষণের জন্য উগান্ডা কেন গেলেন ’

জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওয়াসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলছিলাম। এসময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেই সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত উগান্ডা সফরের প্রসঙ্গ তোলেন। আমি বললাম- জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী উগান্ডার ৭০ শতাংশ মানুষ এখন সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। ৯০ শতাংশ মানুষ সুপেয় থেকে ব্যবহারযোগ্য পানির অভাবে আছে। ছোট ছোট শিশুরা কমপক্ষে ২ কিলোমিটার হেঁটে গেলে একফোঁটা পানি পায়। এরকম একটি দেশকে কেন প্রশিক্ষণের জন্য বেছে নিলেন।’

‘আমি বলেছি- আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেতে পারতেন। নেদারল্যান্ডের কথা এমডি সাহেব নিজেই তুললেন। আমি বলেছি- সেখানেও যেতে পারতেন। আমাদের থেকে যেসব দেশ উন্নত, প্রশিক্ষণের জন্য তো সেখানেই যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এত উন্নত দেশ থাকতে উগান্ডায় কেন গেলেন’

এর জবাবে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের পরামর্শেই প্রশিক্ষণের জন্য উগান্ডা পাঠানো হয়েছিল। উগান্ডার কামপালা শহরটি বর্তমানে পানি সরবরাহে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতোমধ্যে ওই শহরে প্রিপেইড মিটারে পানি সরবরাহ চালু হয়েছে। আর যেহেতু শহরটি বাংলাদেশের পর্যায়ের সেহেতু বিশ্বব্যাংকের পরামর্শেই উগান্ডায় গিয়েছে প্রতিনিধিদল।’

বিজ্ঞাপন

এসময় ওয়াসার এমডি ফজলুল্লাহ তার বিরুদ্ধে কেউ দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসার ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আরও ১৪ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের জন্য পূর্ব-মধ্য আফ্রিকার এই দেশটি ভ্রমণ করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সমালোচনা মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

মতবিনিময়ে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে চলমান খোঁড়াখুঁড়ির প্রসঙ্গও টানেন সুজন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন করতে হলে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে, সেটা বুঝি। কিন্তু একইসঙ্গে সারা শহরে খুঁড়ে রেখেছেন কেন একসঙ্গে সব রাস্তা কেটে না ফেলে শহরকে দুই অংশে ভাগ করে কাটেন। এক অংশের কাজ শেষ হলে আরেক অংশে ধরেন। এখন যেভাবে কাটছেন, গাড়ি চালানো দূরের কথা, মানুষের হাঁটার জায়গাও তো রাখছেন না।’

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উদ্দেশ্য করে সুজন আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আপনাদের সমঝোতা নেই কেন কাউন্সিলররা বলেন- তারা একবার রাস্তা মেরামতের তিনদিন পর ওয়াসা গিয়ে আবারও কেটে দেয়। এটা কেন হবে আগে আপনারা বড় কাজ করতেন রাতে। এখন দিনেও করেন। আগের মতো রাতে করতে পারেন না’

জবাবে ফজলুল্লাহ আগামী বছরের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আর খোঁড়াখুঁড়ি থাকবে না বলে জানান।

পানির দাম না বাড়িয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধেরও তাগিদ দিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী ইয়াকুব সিরাজউদদৌল্লাহ এবং নাগরিক উদ্যোগের পক্ষে হাজী মো. ইলিয়াছ, সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, আব্দুল আজিম, এএসএম জাহিদ হোসেন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, স্বরূপ দত্ত রাজু ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন