রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘উৎপাদনের অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছি শুধু মানুষের সুবিধা ভেবে’

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ৭:৫২ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হলেও শুধু মানুষের সুবিধার কথা ভেবে অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যত টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করি, তার অর্ধেকেরও কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছি। এভাবে ভর্তুকি দেওয়াটা ঠিক নয়, তারপরও মানুষের কল্যাণে, মানুষের সুবিধা চিন্তা করে আমরা সেটা করে যাচ্ছি। কাজেই প্রত্যেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী ও সাশ্রয়ী হবেন।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চারটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আটটি ৩৩/১১ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন- ‘শতভাগ বিদ্যুতায়নে রূপগঞ্জের রূপের ঝলক আরও বাড়বে’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমরা সরকারে আসতে পারিনি। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্মাণের অনেকগুলো কাজ রেখে গিয়েছিলাম। ২০০১ যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের লক্ষ্যই ছিল নিজেরা কিভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হবে। তারা আমাদের রেখে যাওয়া কাজগুলোও যদি শেষ করত, তাহলেও হয়তো মানুষ কিছু আলো পেত। তারা সেটাও করতে পারেনি। যে কাজগুলো একদম শেষের দিকে ছিল, শুধু সেগুলোর কাজ শেষ করে তারা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে শুরু করে আজ আমরা ৯৩ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পেরেছি। আর বিদ্যুতের উৎপাদনও প্রায় ২২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের কাছ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনাও হয়েছে। ভুটান ও নেপালেও কিছু বিনিয়োগের চিন্তা-ভাবনা করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এভাবে আমরা সমগ্র দেশটাকে আলোকিত করতে চাই। কোনো গ্রাম অন্ধকারে থাকবে না। গ্রামগুলোতে যারা বসবাস করে, তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে— সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি বলেই আজ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোই শুধু নয়, সঞ্চালন বাড়ানোর কাজও করছি। ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে, সেজন্য উন্নত মানের সঞ্চালন লাইন বসাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় সরকার গঠন করতে পারিনি

২০০১ সালে আমেরিকার কাছে গ্যাস বিক্রির শর্তে রাজি না হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরাই ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে আন্তর্জাতিক টেন্ডার দেই। অনেক বিদেশি ইনভেস্টটররা আসে। তারা গ্যাস উত্তোলন শুরু করে। সে সময় আমার ওপর চাপ এলো, গ্যাস বিক্রি করতে হবে। প্রচণ্ড চাপ ছিল। আমি বলেছিলাম, আমাদের কত গ্যাস আছে আমরা এখনো জানি না। যেটুকু আছে, তাতে আমাদের দেশের মানুষের চাহিদাই পূরণ হয় না। আগে সার্ভে করে দেখি, তারপর দেশের জন্য ৫০ বছরের রিজার্ভ রাখব। এরপর অতিরিক্ত থাকলে বিক্রি করব। এই নীতি আমি নিয়েছিলাম। কিন্তু তখনকার বিরোধী দল বিএনপি একবাক্যে রাজি হয়ে গেল, তারা ক্ষমতায় এলেই গ্যাস বিক্রি করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার গ্যাসের মালিক বাংলাদেশ, কিন্তু বিক্রি করবে আমেরিকান কোম্পানি, কিনবে ভারত। যেহেতু আমি রাজি হইনি, তাই তার খেসারত দিতে হলো— ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে নিজের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার নীতিতে আমি বিশ্বাসী না।

ওই সময় বিএনপি ক্ষমতায় এসে গ্যাস বিক্রি করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম, সেটা আজ সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ আমাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস নেই। আমাদের এখন এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধানও করছি।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মুকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। এরপর উদ্বোধন করা উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার উপকারভোগী মানুষদে সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

একে একে রাঙামাটি, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলা, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা, নোয়াখালী জেলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়ন এলাকায় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমদ কায়কাউস।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন