বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

সংসদে নতুন কাস্টমস আইনের বিল

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ | ১০:৫০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা পরোয়ানা ছাড়াই গৃহ তল্লাশির ক্ষমতা দিয়ে নতুন কাস্টমস আইন প্রণয়নে বিল উত্থাপিত হয়েছে সংসদে। বিলে চোরাচালান রোধে কাস্টমস কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, গৃহ তল্লাশি ও আটকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া পণ্য আমদানি ও রফতানিতে কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা বা চোরাচালানের মাধ্যমে পণ্য আমদানি ও রফতানি চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারদণ্ডের পাশাপাশি ওই পণ্য বাজেয়াপ্ত করাসহ দুই থেকে তিনগুণ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের চতুর্থ বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করা হয়। ‘কাস্টমস আইন ১৯৬৯’ রদ করে ‘কাস্টমস আইন ২০১৯’ বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একমাসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এর আগে গত বছর দশম সংসদের ২৩তম অধিবেশনে একই শিরোনামে (কাস্টমস বিল ২০১৮) সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন। বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে দশম সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সরকারও বিলটিতে আরও কিছু পরিবর্তন আনে। পরে তা ‘কাস্টমস বিল ২০১৯’ শিরোনামে মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।

বিজ্ঞাপন

নতুন বিলে শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পেলে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা ছাড়াই পণ্য বাজেয়াপ্ত বা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করলে তিন বছরের কারদণ্ড এবং শুল্ক পরিশোধ ছাড়া পণ্য খালাসে সহায়তা করলে একই দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে দুই লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে কাস্টমস হাউস বা ক্লিয়ারেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সর্বোচ্চ পরিমাণ জরিমনা আরোপ করতে পারবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯-এর পরিবর্তে বাংলায় একটি আধুনিক কাস্টমস আইন প্রণয়ণের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘ দিনের। এছাড়া বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত মান সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী আমদানি ও রফতানি পণ্যেও সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার নেতৃত্বে কাস্টমস ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিবিধান সন্নিবেশ করা প্রয়োজন। বিদ্যমান কাস্টমস অ্যাক্টকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক ও যুগোপযোগী করাও ছিল নতুন আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সংসদে আরও ২ বিল উত্থাপন

কাস্টমস আইন বিল ছাড়াও এদিন সংসদে আরও দুইটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইন ২০১৯’ বিল উত্থাপন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (সুরক্ষা) আইন, ২০১৯ বিল নামে অন্য বিলটি উত্থাপন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন